Advertisement
E-Paper

দৃষ্টির বাধা সরল স্বাধীনতা দিবসে

বিজয়বাবুর চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি চিকিৎসক শান্তনু পাত্র। শান্তনুবাবু বলেন, ‘‘কাজটায় চ্যালেঞ্জ ছিল। ওঁর বয়স হয়েছে। তাঁর চোখ পরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি। ভাল লাগছে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০১৮ ০১:১১
নাতির সঙ্গে শতায়ু বিজয় দোলই। নয়াগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র

নাতির সঙ্গে শতায়ু বিজয় দোলই। নয়াগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র

খাতায়-কলমে তাঁর বয়স একশো। একটি চোখ দিয়ে আবছা দেখেন। ডান চোখে একেবারে দেখতেই পেতেন না। অস্ত্রোপচারের পর বুধবার স্বাধীনতা দিবসে ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন তিনি।

তিনি বিজয় দোলই। কেশিয়াড়ির বাঘাস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। মাস সাতেক আগে ধানের কাজ করতে গিয়ে তাঁর চোখে ধান ফুটে যায়। স্থানীয় চিকিৎসক দেখালেও তাঁর দৃষ্টিশক্তির অবনতি হতে থাকে। ছানি পড়তে শুরু করে। তিন মাস ধরে ডান চোখ দিয়ে কার্যত কিছুই দেখতে পেতেন না তিনি। বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তিও ঝাপসা। নাতি বিনন্দ দোলই কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তিনি সব জানতে পেরে বাড়ি এসে দিন পনেরো আগে দাদুকে নয়াগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শুরু হয় চিকিৎসা। গত মঙ্গলবার তাঁকে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার।

বিজয়বাবুর চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি চিকিৎসক শান্তনু পাত্র। শান্তনুবাবু বলেন, ‘‘কাজটায় চ্যালেঞ্জ ছিল। ওঁর বয়স হয়েছে। তাঁর চোখ পরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি। ভাল লাগছে।’’ হাসপাতালের বেডে বসে শতায়ু বিজয়বাবু বলছিলেন, ‘‘ডান চোখে দেখতে পেতাম না। কোনও কাজও করতে পারতাম না। বাঁ চোখেও একেবারে কম দেখতাম। ডাক্তারবাবু আমাকে আগের মতো দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি।’’

নাতি বিনন্দ দোলইও বলেন, ‘‘খুব ভাল লাগছে। ডাক্তারবাবুদের ধন্যবাদ জানাই। আমি চাই দাদু যেন আমার কাছে সব সময় থাকে।’’ চিকিৎসক শান্তনুবাবু বলছিলেন, ‘‘চোখের ছানি শক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া বয়স বেশি হওয়ায় রোগীর কাঁপুনি ছিল। অস্ত্রোপচারের আগে আধ ঘণ্টা মনঃসংযোগ করতে হয়েছে। ওঁর দৃষ্টি ফেরাতে পেরেছি, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’’

গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকেই নয়াগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চোখের ছানি-সহ অন্য অস্ত্রোপচার হচ্ছে। হাসপাতাল সুপারের কথায়, ‘‘হাসপাতালে সপ্তাহে তিনটি অস্ত্রোপচার হয়। এটি সত্যি বিশেষ হয়ে থাকল। হাসপাতালের তরফ থেকে বিজয়বাবুকে স্বাধীনতা দিবসের উপহার দিতে পেরেছি।’’

Blind Centurion Eye Treatment Independence Day

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy