ছিল না পর্যাপ্ত ক্লাস ঘর। এরই মধ্য আদালতের নির্দেশে ভাঙা পড়েছে স্কুলের একাংশ। ফলে ঘরের অভাবে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ত্রিপল টাঙিয়ে চলছে স্কুলের পঠানপাঠন। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন দ্রুত তৈরির দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ শিক্ষকেরা।
১৯১০ সালে পাঁশকুড়ার খন্ডখলা পঞ্চায়েত এলাকায় বাহারপোতা-১ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি হয়। পুরাতন টিনের ভবনেই স্কুল চলত। ২০০০ সালে সরকারি সহায়তায় একটি পাকা ভবন বানানো হয়। বর্তমানে পুরাতন ভবনের দু’টি কক্ষে চলত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস। নতুন ভবনের একটি ঘরে পঞ্চম শ্রেণি ক্লাস হয়। আর একটি হলঘরে একই সঙ্গে বসত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। ওই ভবনের বারান্দায় শিশু শ্রেণির পড়ুয়ারাও পড়ত।
বেআইনি ভাবে জমি দখল করে স্কুল তৈরির অভিযোগে মামলা করেছিলেন অসিতকুমার মান্না এক ব্যক্তি। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় দখল করা জায়গা মামলাকারীকে ফেরাতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে শনিবার বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় হলঘরটি ভাঙা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভাঙা পড়ে শৌচালয় এবং জলের পাইপলাইন।
এতেই বিপাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে খুদে পড়ুয়ারা। তবে পঠনপাঠনে বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে জন্য বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষকেরা ত্রিপল টাঙিয়ে তার নীচে বেঞ্চ এনে ক্লাস নিতে শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে হামেশাই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ঝাপটায় খোলা এলাকায় ক্লাস করা পড়ুয়াদের বই-খাতা ভিজে যাচ্ছে। সোমবার এবং মঙ্গলবার এ ভাবে ক্লাস হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে এ দিন ডেকোরেটার্স ডেকে প্যান্ডেল বানানো হচ্ছে। তবে ভেজা মাটিতে সেই কাজেও বাধা আসছে।
শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, পাইপ লাইন ভেঙে যাওয়ায় দূর থেকে জল এনে মিডডে মিল বানাতে হচ্ছে। শৌচালয়ের অভাবেও সমস্যা হচ্ছে। মিডডে মিল কর্মী মিনতি চক্রবর্তী বলেন, ‘‘খাবার তো বন্ধ করতে পারব না। তাই দূর থেকে জল এনে রান্না করছি।’’ প্রধান শিক্ষক সৌমেন্দু প্রধান বলেন, ‘‘আদালতের রায় মেনে নিতে হবে। তবে এত পড়ুয়াকে নিয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছি। প্রশাসন দ্রুত নতুন ভবন তৈরি না করে দিলে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সমস্যা আরও বাড়বে।’’
বিদ্যালয়ের তরফে আপাতত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি, স্থানীয় বিধায়ক, বিডিও, শিক্ষা দফতরে আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি বলছেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার খবর পেয়েছি। দ্রুত ভবন বানাতে বিধায়ক তহবিলের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পড়াশোনার পরিবেশ ফিরেয়ে দিতে সমস্ত রকম পদক্ষেপ করব।’’