বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার ঝাড়গ্রামের লালগড় থানা এলাকার ঠিকাদার বিপ্লব গোস্বামী। শুধু মারধরের অভিযোগ নয়, বিপ্লবের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরঞ্জাম ‘চুরির’ অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এই বিপ্লব রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বিরবাহা হাঁসদার ঘনিষ্ঠ।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিপ্লবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়ে লালগড় থানায়। এই সব অভিযোগ নিয়ে শোরগোল পড়তেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের কাছে খবর ছিল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নেপুরা গ্রামে ফিরছেন বিপ্লব। সেই খবরের ভিত্তিতে হানা দিয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তাঁকে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন:
পুলিশের দাবি, পলাতক অবস্থায় বিপ্লব ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেছিলেন। অভিযোগ, বিজেপির বুথ সভাপতি তাপস শর্মার উপর অনুগামীদের নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন বিপ্লব। লাঠি, লোহার রড, ইট এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম হন তাপস। ঘটনার পর তাপসের ভাই মানস শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে বিপ্লব-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মারধর এবং খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু হয়। ওই মামলায় তিন জনকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত বিপ্লব এত দিন অধরা ছিলেন।
তদন্তে নেমে দিন কয়েক আগে নেপুরায় বিপ্লবের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শাড়ি, কম্বল, লুঙ্গি, ত্রাণের বাসনপত্র, ১৫০টি ত্রিপল, ১৪০টি সৌর পথবাতি এবং ৩৫ প্যাকেট লাইট চেন। সরকারি সামগ্রী বেআইনি ভাবে মজুত রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়।