রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির প্রতিমার চাহিদা বদলেছে। তারা সাবেকি ধাঁচের প্রতিমার দিকে ঝুঁকছে। সমাজমাধ্যমেও হঠাৎ সাবেকি প্রতিমা, সাবেকি মণ্ডপের দাবি তুলছেন বহু মানুষ। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ‘থিম’ বাদ দিয়ে সনাতনী নিয়মকানুন মেনে পুজো হোক এবং প্রতিমা তৈরি হোক। কিন্তু থিমের পুজোর তুলনায় সাবেকি প্রতিমার ‘বাজেট’ কম হয়। তাই মৃৎশিল্পীদের আশঙ্কা, এ বছর প্রতিমা তৈরিতে তাঁদের লাভ কমবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে একাধিক প্রতিমা তৈরির শিল্পালয় রয়েছে। কয়েকশো শ্রমিক শিল্পালয়গুলিতে সারা বছর কাজ করেন। কয়েক মাস আগেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। বহু ক্লাব সংগঠনের সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাতে পুজোর বৈঠক হয়েছে দেরিতে। পুজোর থিম ও প্রতিমার আঙ্গিক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি হয়েছে। আবার পালাবদলের পরে কিছু ক্লাবের রাজনৈতিক মনোভাবেও বদল এসেছে। কিছু পুজো কমিটি সাবেকি প্রতিমায় জোর দিয়েছে। রঙেও বদল এসেছে। সাবেকি প্রতিমায় বাজেট অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছেন পুজো উদ্যোক্তারা।অধিকাংশ পুজো কমিটিই এ বার প্রতিমায় ৫০-৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে। বড় অঙ্কের বরাত না মেলায় মৃৎশিল্পীরা কারিগরদের মজুরি দেওয়া নিয়ে চিন্তিত। তমলুকের শিল্পী ধীমান মাইতি বলেন, ‘‘নির্বাচনের পরে পুজোর কমিটিগুলিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশই থিমের বদলে সাবেকি প্রতিমার দিকে ঝুঁকেছেন। যে সমস্ত কমিটি এক লক্ষ, দু’লক্ষ টাকার প্রতিমা নিতেন তাঁরাই এখন সেই খরচ নামিয়ে ৫০-৬০ হাজারের মধ্যে বাজেট বেঁধে দিচ্ছেন। কী করে সমস্ত কর্মীকে পারিশ্রমিক দেব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’’
কোলাঘাটের একটি ক্লাবের সম্পাদক সম্রাট ভৌমিক বলেন, ‘‘নির্বাচনের জন্য পুজো কমিটির বৈঠক দেরিতে হয়েছে। আলোচনায় অধিকাংশ সদস্যই সাবেকি প্রতিমায় মত দিয়েছেন।’’