মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের এলাকা নন্দীগ্রাম। এখানে পর পর দু’বার তিনি বিধানসভা ভোটে জিতেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই এখানে উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই নন্দীগ্রামের উন্নয়ন সংক্রান্ত সব বিষয়ে বাড়তি নজর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। অথচ, সরকারি সমীক্ষায় দেখা গেল, সেই নন্দীগ্রাম-ই ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে শ্রম দিবস তৈরিতে, জব কার্ডের ই-কেওয়াইসি করার ক্ষেত্রে এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে শৌচাগার তৈরির টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পিছিয়ে!
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পর্যালোচনার বৈঠকে একাধিক প্রকল্পে নন্দীগ্রামের পিছিয়ে থাকার কারণ সম্পর্কে দুই বিডিওকে আলাদা করে প্রশ্ন করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কোলাঘাটে বলাকা মঞ্চে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, দফতরের প্রধান সচিব পি উলগানাথন-সহ অন্য আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ দিন নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের পঞ্চায়েতের উন্নয়নে তদারকির জন্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিককে দায়িত্ব দেন দিলীপ ঘোষ। শান্তনু বলেন,"যেহেতু নন্দীগ্রামে দীর্ঘদিন বিধায়ক ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সামনেই সেখানে উপ নির্বাচন, তাই নন্দীগ্রামের উন্নয়নে বাড়তি নজর দেওয়ার জন্য দিলীপ ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন।" পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ১০৫ কোটি টাকা তহবিলে পড়ে থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। পঞ্চায়েতে দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়ে দিলীপ ঘোষ এ দিন বলেন,"সব দুর্নীতির হিসাব হবে।’’ দফতরের তরফে বিশেষ অডিট করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সরকারি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে শ্রম দিবস তৈরিতে পিছিয়ে নন্দীগ্রাম -১ ব্লক। মাত্র ৯৬ দিন শ্রমদিবস সেখানে তৈরি করা গিয়েছে। জব কার্ডের ই-কেওয়াইসি করার ক্ষেত্রে জেলায় সবচেয়ে পিছিয়ে নন্দীগ্রাম -২ ব্লক (৮০.৫৯%)। আই আইএইচএল স্কিমে শৌচাগার তৈরির জন্য জেলার প্রায় অর্ধেকের বেশি ব্লকে কোনও আবেদনকারীকে অর্থ দেওয়া হয়নি।
কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের দুই ব্লকে ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে চালু করা গিয়েছে।