বুড়িয়ে যাচ্ছে রামলাল! সে কারণেই বয়সকালের রোগে কাবু জঙ্গলমহলের প্রতীক হাতিটি। বার বার অসুস্থতা, হাঁটতে চলতে না পারা তারই লক্ষণ। প্রাণী চিকিৎসকেরা সে কথাই বলছেন।
বিগত কয়েক মাসে তিনবার জখম হয়েছে রামলাল। গত বছর ২৮ এপ্রিল রামলাল জখম হয়েছিল। ওইদিনই বন দফতর চিকিৎসা শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাঁটাচলায় সমস্যা হয়েছিল রামলালের। গোবিন্দপুর ও ভাওদার জঙ্গলে ছ’দিন ছিল। ডান পায়ে ক্ষত হলেও মূল সমস্যা ছিল হাঁটাচলার। ১০ এপ্রিল ফের রামলাল জখম হয়। মানিকপাড়া রেঞ্জের গোবিন্দপুর জঙ্গলে বেশিরভাগ সময় শুয়ে ছিল। উঠে দাঁড়ালেও খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। সেপ্টেম্বরে পিড়াকাটায় রেঞ্জে রামলাল আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পায়ের তলায় সামান্য ক্ষত ধরা পড়ে।। কিন্তু অন্য পা ফেলতেও সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে সুস্থ রামলাল।
বার বার হাঁটার সমস্যা হওয়াতেই প্রাণী চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, রামলালের ‘ক্রনিক আর্থারাইটিস’ রয়েছে। বাতের ব্যথাই কাবু করে ফেলে রামলালকে। প্রাণী চিকিৎসকদের কথায়, ‘‘এটা হাতিদের সাধারণ রোগ। কারণ, হাতির শরীরের বিপুল ভার পায়ের উপর থাকে। হাতি দাঁড়িয়ে অথবা শুয়ে থাকে। বসতে পারে না। অনেক সময় বিশ্রাম নিতে শুয়ে পড়ে। অনেকের ধারণা, হাতি শুয়ে থাকে মানেই অসুস্থ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নয়।’’
প্রাণী চিকিৎসকদের মত, কৈশোরেই হাতিরা বাতে আক্রান্ত হতে পারে। জঙ্গলমহলের প্রিয় হাতি রামলালের বয়স পঞ্চাশের বেশি বছর। হাতিদের বার্ধক্য শুরু হয় ৬০ বছরে। ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। রামলাল বার্ধক্যের দোড়গোড়ায়। বন্যপ্রাণীদের স্থায়ী রোগের নিয়মিত চিকিৎসা সম্ভব হয় না। প্রাণী চিকিৎসকদের মত, ‘‘আর্থারাইটিস রোগে ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কিন্তু রামলালের ক্ষেত্রে তা একেবারেই সম্ভব নয়। হাঁটচলা করতে সমস্যা হলে আবার চিকিৎসা করা হবে।’’
প্রাণী চিকিৎসক চঞ্চল দত্ত বলছেন, ‘‘এ বার প্রথম দিন থেকেই রামলালের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। হাঁটতে না পারার মূল কারণ হল আর্থারাইটিস। কারণ, পায়ের তলায় যে সামান্য ক্ষত হয়েছিল সে জন্য হাঁটতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর্থারাইটিসের চিকিৎসা হয়েছে। এই রোগ একেবারে নিরাময় করা সম্ভব নয়।’’