E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কোনও খবর নেই, উৎকণ্ঠায় নেপালে নিখোঁজের পরিবার

খড়্গপুর শহরের প্রেমবাজারে হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহের বাড়িজুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০২৬ ০৯:২৭
নেপালে বিপর্যয়ের পরে।

নেপালে বিপর্যয়ের পরে। ছবি: পিটিআই।

নেপালে বিপর্যয়ে নিখোঁজ বহু মানুষ। স্বজনের খোঁজ চলছে। বাড়িতে বসে থাকতে পারছেন না খড়্গপুর থেকে মান (মানস) সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বপনকুমার সিংহের পরিজনেরাও। ছুটছেন প্রশাসনের দরবারে। তবে কোনও দিশা পাননি। নেপালে পৌঁছেও আশার কথা শোনাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ সংস্থার প্রতিনিধিরা। অসহায় পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ।

খড়্গপুর শহরের প্রেমবাজারে হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহের বাড়িজুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা। আশঙ্কায় চোখের জল ফেলছেন তাঁর স্ত্রী পেশায় স্কুলশিক্ষিকা সোনালি সিংহ। দিশাহারা ছেলে অর্ণব সিংহ থেকে দাদা মিলনকুমার সিংহও। সময় যত গড়াচ্ছে, বাড়ছে উদ্বেগ। ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বিধ্বংসী হড়পা বানের পর থেকেই পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন স্বপনের। ২১ অগস্ট বাড়ি থেকে মান সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। ২২ অগস্ট পৌঁছন নেপালের কাঠমাণ্ডুতে। শেষ ২৫ অগস্ট বাড়ির লোকের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর।

বৃহস্পতিবার খড়্গপুর টাউন থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন স্বপনের দাদা মিলন। পুলিশ জানিয়েছে, জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও মাধ্যমে কোনও খবর পৌঁছয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভার্চুয়াল বৈঠকেও এই পরিবারের কেউ ছিলেন না। মিলন বলেন, ‘‘ভ্রমণ সংস্থা থেকে ওই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন যোগাযোগ করেনি। লিঙ্ক না পেলে বৈঠকে যোগ দেব কী করে!’’ স্বপনের পরিজনেরা এ দিন গিয়েছিলেন মহকুমাশাসকের কাছে। সোনালি বলেন, “উনি জেলাশাসককে জানিয়েছেন। ভ্রমণ সংস্থার প্রতিনিধিরা নেপালে পৌঁছেছেন। তাঁরা সকালে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তেমন আশার আলো দেখছেন না জানিয়েছেন। ওঁদের ঘটনাস্থলে যেতে দেয়নি। যদি ‘মিরাকেল’ হয়। তাই আশা হারাচ্ছি না। হয়তো কোথাও আটকে আছেন!”

তবে এমন বিপর্যয়ের দু’দিন পরেও মানুষটা কতটা সুস্থ রয়েছেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিজন থেকে পড়শিরা। স্বপনের দাদা মিলন বলছেন, “সময় যত এগোচ্ছে, ততই আতঙ্ক বাড়ছে। কোনও দিক থেকে কোনও খবর পাচ্ছি না। পুলিশ বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পর্যন্ত খবর গিয়েছে। তবে নতুন কোনও খবর নেই। ভ্রমণ সংস্থার চারজন নেপাল পৌঁছলেও ভাল কিছু জানাতে পারেনি। ওর স্ত্রী-ছেলে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছে।” পরিবারটি পাশে রয়েছেন পড়শিরা। স্থানীয় জীবন ঘোষ বলেন, “আমরা সবাই স্বপনদার পরিবারের পাশে আছি। কিন্তু এত ঘন্টা পরে ওঁর সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। উনি যেমন মানুষ তাতে সুস্থ থাকলে একবার হলেও যোগাযোগ করতেন।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Kharagpur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy