মাটির বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হল বাবা-মেয়ের। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার জাহালদা এলাকার ঘটনা। মৃতদের বয়স ৭৬ এবং ৪৮ বছর।
দুর্ঘটনাটি হয়েছে রবিবার গভীর রাতে। রাতভর টানা বৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়। মাটির বাড়িতে ঘুমোচ্ছি নিরঞ্জন প্রধান এবং তাঁর পরিবার। মাঝরাতে অকস্মাৎ হুড়মুড়িয়ে বাড়ির দেওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ে। তার তলায় চাপা পড়েন ঘুমন্ত বাবা এবং মেয়ে। জখম হন পরিবারের আরও দুই সদস্য।
বিকট শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা বেরিয়ে এসেছিলেন। প্রাথমিক ভাবে তাঁরাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে উদ্ধার করা হয় নিরঞ্জন প্রধান এবং তাঁর মেয়ে দুর্গা প্রধানকে। কিন্তু দু’জনের কেউ তখন আর বেঁচে নেই।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে নিরঞ্জনদের মাটির বাড়িটির অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। দেওয়ালের একাংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বাধ্য হয়ে সেই বাড়িতেই থাকতে হচ্ছিল প্রধান পরিবারকে। রবিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে সকলে ঘুমোতে গিয়েছিলেন। মাঝরাতে এই বিপর্যয়।
নিরঞ্জনের স্ত্রী এবং পুত্র জখম হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বেলদা থানার পুলিশ। বাড়িটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, বৃষ্টির জেরে কাঠামো কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শাসকদলের স্থানীয় নেতা গৌতম দাস বলেন, ‘‘ওঁদের মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির জন্য ওঁদের বাড়িটির ক্ষতি হচ্ছিল। এমনিতে ভগ্নদশায় ছিল। আমরা কয়েক বার (আবাস যোজনার জন্য) সার্ভে করে গিয়েছিলাম। যাতে উনি বাড়িটা পান। ওঁর পরিবারের পাশে আমরা সবাই থাকব। সব রকম সহযোগিতা করব।’’