E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

হলদি নদীতে সক্রিয় অবৈধ বালি খাদান, বিক্ষোভ মৎস্যজীবীদের

এই খাদানগুলির জন্য মৎস্যজীবীদের জাল ছিঁড়ে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার কয়েকজন মৎস্যজীবী খাদানের প্রতিবাদ করায় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৭
হলদি নদীতে খাদান।

হলদি নদীতে খাদান। নিজস্ব চিত্র।

খাতায়-কলমে কোনও বালি খাদানের অস্তিত্ব নেই জেলায়। বালিপাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানও চলছে। বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে সরকার ও প্রশাসন। তারপরেও আইনের তোয়াক্কা না-করে হলদি নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক বালি খাদান সেখানে সক্রিয় থাকায় আর্থিক ক্ষতির সামনে পড়ছেন এলাকার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা।

এই খাদানগুলির জন্য মৎস্যজীবীদের জাল ছিঁড়ে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার কয়েকজন মৎস্যজীবী খাদানের প্রতিবাদ করায় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে বুধবার সকালে এলাকার সব মৎস্যজীবী নৌকো নিয়ে অবৈধ বালি খাদান ঘিরে বিক্ষোভ দেখান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে কোনও বালি খাদান চালানোর অনুমোদন দেয়নি ভূমি দফতর। তা সত্ত্বেও নরঘাট থেকে হলদিয়ার মুখ পর্যন্ত হলদি নদীর তীরে অন্তত ১০-১৫ টি বালি খাদান সক্রিয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একটি অসাধু চক্র এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কিছুদিন খাদানগুলি বন্ধ ছিল। কিন্তু কিছুদিন হল ফের নদী থেকে রাশি রাশি বালি তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে এইসব খাদান চলছে? স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, নদীর গর্ভে ৩০-৪০ ফুট গর্ত কাটা হয়েছে। সেই গর্তে এসে জমা হয় বালি। ভাটার সময় সেই বালি তুলে ডাম্পার করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। খাদানের গর্তে ভারি ধাতব জিনিস ফেলে রাখা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দা ছোট নৌকায় করে নদীতে মাছ ধরেনন। তাঁদের অভিযোগ, নদী গর্ভে যে খাদান তৈরি করা হয়েছে সেখানে ফেলে রাখা ভারী ধাতব জিনিসে জাল আটকে ছিঁড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি খাদানের নামে যে গর্ত তৈরি করা হচ্ছে তাতে মাঝেমধ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না-পেরে নৌকো উল্টে যাচ্ছে।

মৎস্যজীবী শেখ সাব্বিরের কথায়,"আমার ২৫ হাজার টাকার জাল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বালিখাদানের শ্রমিকদের সঙ্গে মৎস্যজীবীদের নিত্য ঝামেলা হচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি।" মঙ্গলবার একই রকম ভাবে মাছ ধরার জাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বালি খাদানের প্রতিবাদ করেছিলেন নন্দীগ্রামের গোপালচকের দুই মৎস্যজীবী। তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে বুধবার সকালে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নিজেদের নৌকো নিয়ে অবৈধ বালি খাদান ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরামের মহিলা শাখার নেত্রী রিনা দাস বলেন,"হলদি নদীতে অবৈধ বালি খাদান রমরম করে চলছে সকলের চোখের সামনে। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনকে বলে সুরাহা হয়নি। অবিলম্বে বালি খাদান বন্ধ করা না-হলে মৎস্যজীবীদের জীবিকা বিপন্ন হবে।’’ এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) অর্চনা ওয়াঙখেড়ে বলেন,"খোঁজ নিয়ে দেখব।"

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Haldi River Mahishadal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy