সৈকতের জেলা হিসাবে পর্যটকের আগমণ মন্দ হয় না পূর্ব মেদিনীপুরে। উপকূল এলাকা ছাড়াও এই জেলায় রয়েছে আরও পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটনের সেই তালিকায় নতুন এলাকা সংযোজনে উদ্যোগী জনপ্রতিনিধি। মহিষাদল ব্লকের ঐতিহ্যবাহী হরিখালী গ্রাম এবং তেরাপেখিয়ার শতবর্ষ প্রাচীন সেচ বাংলোকে পর্যটন কেন্দ্র গড়তে উদ্যোগী হয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক। সেখানে হোম স্টে বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে বিধায়ক এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি, পর্যটন, নগর উন্নয়ন দফতর এবং হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
হরিখালির প্রধান আকর্ষণ হল এখানের জমিদার বাড়ি, লোহার খুঁটি, বিরাট নাট মন্দির এবং প্রখ্যাত যাত্রা গবেষক প্রয়াত প্রভাতকুমার দাসের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান। গবেষকের লেখাতেই এই অঞ্চলের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়টি জনপ্রিয় হয়েছে। জমিদার বাড়ির ভিতরে থাকা প্রাচীন নাট মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে। এই মন্দিরের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় লোকসংস্কৃতি গবেষক সঙ্কর্ষণ মাইতির কথায়, ‘‘প্রভাতকুমার দাস ছিলেন যাত্রা গবেষণার একজন দিকপাল ছিলেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় হরিখালী আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ এখানে পর্যবেক্ষণ করতে আসেন। একাধিক সিনেমার শুটিং হয়েছে। এই এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র করলে আরও জনপ্রিয় হবে।’’
শুক্রবার ইটামগরা-২ পঞ্চায়েতের প্রধান রামকৃষ্ণ দাসের সঙ্গে মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষ পাঁজা হরিখালি এলাকা পরিদর্শন করেন। বিধায়ক জানান, এই মন্দিরের সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। হরিখালি গ্রামের উৎসব এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি এই অঞ্চলের আকর্ষণ বৃদ্ধি করবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।
অন্য দিকে, তেরাপেখিয়াতেও পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। এখানের কয়েক একর জমির উপরে রয়েছে সেচ বাংলো। যেটি বর্তমানে ভূতুড়ে বাড়ির মতো রয়েছে। পাশেই হিজলি টাইডাল ক্যানালে হাইড্রোলিক গেট নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামকৃষ্ণ দাস জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে চ্যানেলটির সম্পূর্ণ সংস্কার শেষ হবে। তার পরেই এই এলাকায় গেঁয়োখালির মতো পর্যটনের আকর্ষণ হিসাবে বানানো হবে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পূর্ত ও নগর উন্নয়ন দফতর এবং সেচ দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। বিধায়ক সুভাষের কথায়, ‘‘এই অঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজম এবং হেরিটেজ ট্যুরিজম কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।’’