আট বছরের প্রেম। বিয়ে হয়েছিল দশ মাস আগে। তার মধ্যেই অশান্তি। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার বধূর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশকর্মী বাবার অভিযোগের মৃতার স্বামী এবং শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার ঘটনা। ধৃত স্বামীর চার দিনের পুলিশি হেফাজত ও শ্বশুরের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম স্নেহা চক্রবর্তী। বয়স ২৫ বছর। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর সদর ব্লকের যমুনাবালি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সকলে দাবি করেন স্নেহা আত্মহত্যা করেছেন। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। এর মধ্যে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে স্নেহার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।
যুবতীর বাপের বাড়ি মেদিনীপুর শহরেই। বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী পুলিশে চাকরি করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়ের বিয়ে হয় গত বছরের অক্টোবরে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচারিত হতে হচ্ছিল মেয়েকে। জামাই রণদীপ জানা এবং বেয়াই রতন জানার দিকে আঙুল তোলেন তিনি।
ধ্রুব জানিয়েছেন, জামাইয়ের ব্যবসায়ী পরিবার। বালি এবং লরির ব্যবসা রয়েছে। যদিও পণে তাঁরা মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে বিএমডব্লিউ-র বাইক কিনবেন বলে গোঁ ধরেছেন জামাই। মেয়ের মাধ্যমে তাঁর কাছে টাকা চান। মেয়ে ওই প্রস্তাব বা জোরাজুরিতে রাজি হয়নি। ওই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। তার পর থেকে স্ত্রীর উপর আরও অত্যাচার করতেন রণদীপ। ধ্রুব আরও দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। পণ না পেয়ে তাঁকে খুন করেছেন স্বামী এবং শ্বশুর। ওই পুলিশকর্মী বলেন, ‘‘মেয়ের বিয়ের পর থেকে ওদের সংসারে অশান্তি চলছিল। সম্প্রতি বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনা নিয়ে বরের সঙ্গে বচসা হয়। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানাব।’’ উল্লেখ্য, পাঁচ দিন আগে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন রণদীপ। সেটিও বিএমডব্লিউ সংক্রান্ত।