E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বৃষ্টিভেজা সৈকত, ঝড়ের দাপট কাঁথিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪১
ভেঙেছে গাছ। কাঁথি শহরে। নিজস্ব চিত্র

ভেঙেছে গাছ। কাঁথি শহরে। নিজস্ব চিত্র

উপকূলে যত না প্রভাব পড়ল তার থেকে ‘অর্ণব’-এর প্রভাব বেশি পড়ল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শহর কাঁথিতে। সৈকত শহর দিঘায় ভারী বৃষ্টিতে ভিজেছে। তবে বুধবার ভোরে ঝড়ের ব্যাপক তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছে কাঁথি।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ল্যান্ডফল হওয়ার পরে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ভোর রাত ৩টা থেকে দিঘা লাগোয়া কাঁথিতে জোরে বাতাস বইতে শুরু করে। সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি। যা চলেছে প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে। ঝড়ে শহরে গাছ, পুজোর তোরণ ভেঙে পড়ে। সকালে সেই ছবি সামনে আসে। ভোর হতে তাণ্ডবলীলার ছবিটা প্রকাশ্যে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর কাঁথির বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জে’র অদূরে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডগামী রাস্তায় ভেঙে পড়ে পুজোর বিজ্ঞাপণের তোরণ। রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। রেল স্টেশনগামী রাস্তায় বিশাল আকারের অন্তত ২০-২৫টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ ভেঙে পড়ে।

একই রকম ছবি দেখা গিয়েছে, ১১৬ বি জাতীয় সড়ক থেকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগকারী রাস্তায়। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচুর বড় বড় গাছ ভেঙেছে। আট নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় একটি মন্দিরের পিছনেও গাছপালা ভেঙে পড়ে। বুধবার সকাল থেকে পুরসভার কর্মীরা ভেঙে পড়া ওই সব গাছ কেটে পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তা শেষ করতে কোথাও দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়। পুরসভার সাফাই বিভাগের আধিকারিক হিমাংশু মান্না বলেন, ‘‘সকাল থেকেই সব ওয়ার্ডে ভাঙা গাছ সরানো হচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে।’’

ঝোড়ো বাতাসে শহরের জুনপুট বাস স্ট্যান্ড মোড়, রসুলপুর বাস স্ট্যান্ডে অনেক ব্যানার, ফেস্টুন ভেঙেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুতৃষ্ণা দাস বলেন, ‘‘বাড়ির ভিতরে বৃষ্টির জল ঢুকেছে। মনে হচ্ছিল, এখানেই যেন অর্ণব বয়ে গিয়েছে।’’ এ দিকে, খড়্গপুর বাইপাস, মেচেদা বাইপাসে ট্রাফিক বিভাগের স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের খুঁটি ভেঙে যায়। তাই রাস্তায় নেমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে ট্রাফিক কর্মীদের। কাঁথির পুরপ্রশাসক তথা মহকুমাশাসক রোহিত ত্যাগী বলেন, ‘‘বড় ক্ষতি হয়নি। তবে প্রচুর গাছ এবং ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটি ভেঙেছে।’’

এ দিন, শহর সংলগ্ন কাঁথি-৩ ব্লকের দুরমুঠ এবং কুসুমপুর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর গাছ ভেঙেছে। টালির বাড়ি ভাঙার খবরও মিলেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। কাঁথিতে ঝড়ের এমন রূপ দেখা গেলেও দিঘার সৈকতে এতটা বিরূপ প্রভাব পড়েনি। মঙ্গলবার রাত থেকে দিঘায় ভারি বৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্র অশান্ত ছিল। ‘দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনে’র যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মঙ্গল ও বুধবার পর্যটকদের মোটামুটি ভিড় ছিল। এ দিন বৃষ্টি থামতে হোটেল ছেড়ে বেরোন তাঁরা।’’

নিউ দিঘার বিভিন্ন ঘাটে ভিড় ছিল। সমুদ্রে স্নানে নিষেধ করেন নুলিয়ারা। তবে একাংশ পর্যটক জলে নামেন। স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কবার্তা রয়েছে। সেইমত জেলা প্রশাসন এবং ডিএসডিএ পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের সমুদ্রের ধারে যেতে নিষেধ করেছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Contai

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy