বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'- এর প্রভাব সে ভাবে পড়ল না পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ঝাড়গ্রাম জেলায় অবশ্য সামান্য প্রভাব পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এই দুই জেলায় আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে থাকে। বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি খানিকটা ঝোড়ো হাওয়াও ছিল। রাতে গড়বেতা, ঘাটাল-সহ কিছু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর থেকে দুই জেলার কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে মেদিনীপুর-সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। এ দিন সকাল থেকে মেঘলা আকাশের পর দুপুরে মেদিনীপুরে বৃষ্টি হয়েছে, তবে ভারী নয়, হালকা থেকে মাঝারি। এ দিন মেদিনীপুরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব আমাদের জেলায় পড়েনি। বৃষ্টি হয়েছে। তবে সে ভাবে ভারী বৃষ্টি হয়নি।’’ খড়্গপুর ও ঘাটাল মহকুমাতেও 'অর্ণবের' প্রভাব সে ভাবে নেই। দিনভর আকাশ মেঘলা ছিল। খড়্গপুর, ডেবরা, সবং এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তবে ঝড় হয়নি। খড়্গপুর শহরের বেনাপুরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক জ্যোতিন্দ্রনাথ দাস বলেন, "অর্ণব নিয়ে যে ভাবে শোরগোল হল তার ছিঁটেফোঁটা প্রভাব দেখলাম না। এর থেকে প্রাক বর্ষার বৃষ্টিও বেশি হয়।" আজ, বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার কথা।
‘অর্ণবের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় প্রভাব পড়েছে ঝাড়গ্রাম জেলায়। বিঘার পর বিঘা ধানজমিতে জল জমে যাওয়ার পাশাপাশি হালকা ঝোড়ো হাওয়ায় নুইয়ে পড়ছে পাকা ধানগাছ। এই জেলা জুড়ে মঙ্গলবার বিকেলে থেকে ঝড় বইতে শুরু করে, বৃষ্টিও হয়। গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রাম ব্লকের বহু ধান জমিতে নুইয়ে পড়ে। এ দিন সকাল থেকেই মেঘলা আবহওয়া ছিল। দুপুর থেকে বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। কারণ, এই সময়ে মাঠে রয়েছে পাকা ধান। এমন পরিস্থিতিতে টানা বৃষ্টি হাওয়ার কারণে ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এ ভাবে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি চলতে থাকলে ধানচাষে ক্ষতি হতে পারে। তবে এক কৃষি আধিকারিক বলছেন, ‘‘খুবই অল্প পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি ধান চাষের পক্ষে সহায়ক হয়েছে।’’
(তথ্য সহায়তা: বরুণ দে, দেবমাল্য বাগচী, অভিজিৎ চক্রবর্তী, রঞ্জন পাল ও রূপশঙ্কর ভট্টাচার্য)