একই দিনে হলদিয়া এবং কাঁথি মহকুমা আদালতে ভার্চুয়ালি হাজিরা দিয়েছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। ভার্চুয়াল শুনানিতে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর।
গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় মিলনকে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত, লুটপাট-সহ নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ২০০৭ সালের একটি খুনের মামলায় মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তাঁর গ্রেফতারির কিছুক্ষণ আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তাঁর দল নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার নন্দীগ্রামের তিনটি মামলায় হলদিয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল মিলনকে। বিচারক ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোমবার খেজুরি থানার মামলার প্রেক্ষিতে কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল মিলনকে। কিন্তু এর মধ্যে নন্দীগ্রাম থানায় নতুন করে একটি মামলা রুজু হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে। একই দিনে দুই আদালতে সশরীরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে হলদিয়া উপ-সংশোধনাগার থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন মিলন।
হলদিয়া আদালত অভিযুক্ত কংগ্রেস প্রার্থীকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। কাঁথি মহকুমা আদালতের বিচারক সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দেখে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে বলেছেন। মিলনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে। মিলনের আইনজীবী মাসুদ মল্লিক বলেন, ‘‘একই সময়ে হলদিয়া এবং কাঁথি আদালতে শুনানি থাকায় ভার্চুয়ালি শুনানি হয়েছিল। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে কাঁথি আদালত আমার মক্কেলকে ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন।’’ তিনি জানান, মিলনের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা রয়েছে, তা জানতে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে।
পাশাপাশি, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, নন্দীগ্রামে তাদের ভোটপ্রচারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে যাঁরাই প্রচার এবং সভায় যাচ্ছেন, তাঁদেরই ভয় দেখাচ্ছে শাসকদল এবং পুলিশ। বিজেপি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া মেলেনি।