গোটা রাজ্য জুড়ে বেশ ক’য়েকদিন ধরে টানা বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। একাধিক জায়গায় খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ প্রমাণিত হয়েছে। খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়াতেও ত্রুটি দেখা গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৯৪ টি জায়গায় পরিদর্শন হয়েছিল। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৩২টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। বৈধ লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ব্যবসা চালাচ্ছে এমন ২৮ টি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মিলেছে। ২২টি প্রতিষ্ঠানকে ঝাঁপ বন্ধ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু হোটেল ও দোকানের কিছু লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে। ৭৬টি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় বলেন,"খাদ্য প্রস্তুত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য বিপণনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি মেনে চলে হচ্ছে না বলে অভিযোগ আসছিল। অভিযানে সে সব খতিয়ে দেখা হয়েছিল। অনিয়ম ধরা পড়ায় ফুড সেফটি অ্যাক্টের ৩৮ নম্বর ধারায় অনেককে নোটিস দেওয়া হয়েছে । অভিযানে ২২ টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘ক্লোজ়ার নোটিস’ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ৭৬টি ক্ষেত্রে শো-কজ় করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’’
জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক আরও জানান, খাদ্য সুরক্ষা বিধি চলা নিয়ে সারা বছরই অভিযান চলে। তবে সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল। তাতে খাবার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা বিধি ভাঙার বিষয়টি নজরে আসার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মানুষকেও সতর্ক করা হচ্ছে যাতে বাইরে থেকে খাবার কেনার সময় দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা সকলে যাচাই করে নেন।