মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা মতো আপাতত শুধু ডিম সিদ্ধ করার দায়িত্ব পেয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যেরা। ফলে, মিডডে মিল কর্মীদের কাজ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মাসিক মজুরি ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে পথে নামলেন মিডডে মিল কর্মীরা। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার মিছিলে মিডডে মিলকে কোনও অবস্থাতেই বেসরকারি সংস্থা বা ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না বলেও দাবি তোলেন তাঁরা।
ঘোষণা মতো আজ, শনিবার থেকে কলকাতার সরকারি স্কুলে মিডডে মিল সরবরাহ করবে ইসকন। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে অন্য জেলাতেও। এর বিরোধিতা করেই এ দিন ‘সারা বাংলা মিডডে মিল কর্মী ইউনিয়ন’-এর নারায়ণগড় ব্লক কমিটি বেলদা বাজার নারায়ণগড় বিডিও-র কার্যালয় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে। বিক্ষোভের পরে বিডিওকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, “এখনও নির্দেশ আসেনি। ওঁদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।” বেতন বৃদ্ধি-সহ নানা দাবিতে মেদিনীপুরেও মিছিল করেছেন আশা, অঙ্গনওয়াড়ি, মিডডে মিল কর্মীরা। সিটু প্রভাবিত ‘আশা স্বাস্থ্যকর্মী ইউনিয়ন’, ‘আইসিডিএস কর্মী সমিতি’, ‘মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন’- এর ডাকে এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল প্রমুখ। জেলাশাসকের দফতরে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য মিডডে মিল কর্মীদের এক হাজার টাকা বেতন বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন। রন্ধনকর্মীরা অগস্ট থেকে দু’হাজারের জায়গায় তিন হাজার টাকা সাম্মানিক পাবেন। তাতে অবশ্য কর্মীরা খুশি নন। এ দিন আন্দোলনকারীরা বছরের পুরো ১২ মাসের বেতন দেওয়া, প্রতি মাসের শুরুতে বেতন মেটানো, উৎসব ভাতা এবং মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্য জুড়ে মিডডে মিলের কাজ জোর করে ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ। মিডডে মিল কর্মীদের দাবি, অনেক যত্ন করে তাঁরা রান্না করা টাটকা খাবার পড়ুয়াদের পরিবেশন করেন। সেখানে প্যাকেটজাত খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। বস্তুত, চাপের মুখে সপ্তাহে এক-দু’দিন বাচ্চাদের ডিম দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই দায়িত্বটুকুই থাকছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের। ফলে, মিডডে মিল কর্মীদের কাজ নিয়ে আশঙ্কা থাকছে। সংগঠনের ব্লক সভানেত্রী কৃষ্ণা ভুঁইয়া, সম্পাদিকা অঞ্জলি বেরার কথায়, “প্রতিদিন যত্ন ও দায়িত্ব নিয়ে স্কুলে স্কুলে খুদেদের জন্য রান্না করেও কর্মীরা চরম আর্থিক অবহেলার শিকার। তার উপরে যদি প্রকল্পটি ইসকন বা অন্য বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে হাজার হাজার মিডডে মিল কর্মী কাজ হারিয়ে বিপদে পড়বেন।” স্কুলের শিক্ষকদের বক্তব্য, মিডডে মিলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলে স্কুলের পঠনপাঠন-সহ অন্য কাজে মনোনিবেশ করা যাবে। তবে কর্মীদের কাজ যাওয়ার পক্ষপাতী নন কেউই।