পুরসভা নিয়ে জেলাশাসক দফতরে বৈঠকের সময় একতলায় ঢুকে পড়েছিলেন বেশ কয়েক জন মহিলা। অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা পাচ্ছেন না। তাঁদের কথা শুনতে বৈঠক ছেড়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে এসেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে তিনি জানালেন, অন্নপূর্ণা নিয়ে গন্ডগোলের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল! বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাবেন।
শুক্রবারও অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা না-পেয়ে কলকাতা থেকে নানা জেলায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও বিডিও অফিস, কোথাও পুরসভায় গিয়ে বঞ্চনার অভিযোগ করছেন মহিলারা। এমনকি, রেলপথ অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবারই পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলাশাসক দফতরে ঢোকার সময় অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মহিলাদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। তাঁদের আশ্বাস এবং জবাব দিয়ে তিনি জেলাশাসক দফতরে ঢুকে যান। কিন্তু দুপুরে প্রশাসনিক বৈঠকের সময় ছন্দপতন। হইহই করে একদল মহিলা ঢুকে পড়েন জেলাশাসক দফতরের নীচতলায়। বৈঠক ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন অগ্নিমিত্রারা। বেশ খানিক ক্ষণ চলে কথাবার্তা।
বৈঠক শেষে অন্নপূর্ণা-বিক্ষোভ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রার মত, অশান্তির নেপথ্যে কোথাও কোথাও পূর্বতন শাসকদলের হাত রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মা-বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। ২ কোটি মহিলার যদি আবেদনপত্র পড়ে থাকে, সেগুলো আপলোড করতেও তো একটু সময় লাগবে। সেই সময়টা দিতে হবে।’’ মন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘বলতে খারাপ লাগছে, অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে। অনেকে গন্ডগোল পাকাচ্ছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি।’’
এর আগে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেই সুর শোনা গেল মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার গলাতেও। তিনি বলেন, ‘‘দেখে দেখে যাঁরা যোগ্য তাঁদের না দিয়ে (অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা) অযোগ্যদের দিচ্ছে। সেই কারণে যাঁরা যোগ্য, তাঁরা অকারণে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। এই বিষয়টা রাজনীতির অংশ। ধীরেসুস্থে সব ঠিক হয়ে যাবে।’’
তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৬টি পুরসভা নিয়ে বৈঠক ছিল শুক্রবার। কী ভাবে মানুষকে আরও ভাল পরিষেবা দেওয়া যায় তা নিয়ে, পয়ঃপ্রণালী, আলো, রাস্তা, সাধারণ শৌচাগার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।