Advertisement
E-Paper

বন্ধুর বাবার বন্দুক নেড়েচেড়ে দেখার সময়ে আচমকাই গুলিবিদ্ধ ছাত্র! খড়্গপুর গুলিকাণ্ডে নয়া তথ্য, গ্রেফতার তিন জন

পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘এটি কোনও গ্যাংওয়ার নয়। খড়্গপুর শহরে আর সেই দিন ফিরে আসবে না। সমস্ত দুষ্কৃতীর ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৫৪
ধৃতদের নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার। নিজস্ব চিত্র।

ধৃতদের নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার। নিজস্ব চিত্র।

খড়্গপুর শহরে গুলিকাণ্ডে নয়া তথ্য। বন্ধু সাগরের বাবার বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময়েই অসাবধানতাবশত গুলি ছুটে বুকে লাগে স্কুলছাত্র অক্ষয় ঝায়ের। পুলিশ সুপার (এসপি) পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, এটা কোনও গ্যাংওয়ারের ঘটনা নয়। বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময়েই এই ঘটনা ঘটেছে।

আহত স্কুলছাত্র অক্ষয় বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তার অবস্থা সঙ্কটজনক। একাধিক প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সেগুলি চিকিৎসকেরা খতিয়ে দেখছেন। অক্ষয়ের শরীরের বিভিন্ন প‍্যারামিটার পরীক্ষা করে দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গুলিকাণ্ডের ঘটনায় অক্ষয়ের বন্ধু সাগর-সহ তিন জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাপিয়া জানান, সাগর ছাড়াও বাকি দুই ধৃত হলেন, কোলা যোগেশ্বর রাও এবং বিশাল জানা। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায়। বয়স ২২-২৩ বছরের মধ্যে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। বাকি এক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

বৃহস্পতিবার তিন ধৃতকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানিয়েছেন, একটি নাইন এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মাঝেমধ্যেই পাশের বাড়ির ছেলে সাগরের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করত অক্ষয়। দু’জনের বাড়িতেই যাতায়াত ছিল। বুধবার সকালেও সাগরের বাড়িতে গিয়েছিল অক্ষয়। সেখানে সাগর তাঁর বাবা বেঙ্কট রাওয়ের বন্দুক নিয়ে দেখছিলেন। তাঁর হাত থেকে নিয়ে সেই বন্দুক নাড়াচাড়া করছিল অক্ষয়। সেই সময় অসাবধানতাবশত গুলি চালিয়ে ফেলে অক্ষয়। প্রথমে ফল্‌স ফায়ারিং হয়, কিন্তু পরে একটি গুলি অক্ষয়ের বুকের বাঁ দিকে লাগে। সাগরের বাড়ি থেকে রক্তমাখা জামা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

এসপি বলেন, ‘‘এটি কোনও গ্যাংওয়ার নয়, খড়্গপুর শহরে আর সেই দিন ফিরে আসবে না। কোনও ভাবে সাধারণ মানুষের পথচলায় বিঘ্ন ঘটতে দেব না। সমস্ত দুষ্কৃতীর ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।’’

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অক্ষয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাগর ভয় পেয়ে তাঁর বন্ধুদের ফোন করে ডাকেন। তাঁরাই অক্ষয়কে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার পর তাঁরা হামলার গল্প ফাঁদেন।

রাজ্যের মন্ত্রী তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘খড়্গপুরে একটা সময় মাফিয়ারাজ ছিল। এখনও অনেক আগ্নেয়াস্ত্র আছে। পুলিশ চেষ্টা করছে সেগুলোকে বার করার। যে ঘটনা হয়েছে, সেটা নিজেদের মধ্যে। আকস্মিক ভাবেই গুলি চলেছে। সব কিছু ঠিক করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।’’

দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া অক্ষয়। তার বাবা রেলকর্মী। খড়্গপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ বন্ধু সাগর কুমারের স্কুটিতে চেপে একটি দোকানে খেতে যাচ্ছিল সে। ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় রেলের একটি অনুষ্ঠান ভবনের পিছনের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় সাগর অনুভব করেন বন্ধু পড়ে গিয়েছে। স্কুটি থামিয়ে লোকজন জড়ো করেন তিনি। দ্রুত বন্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করেন। এই ঘটনায় গ্যাংওয়ারের তত্ত্বও উঠে আসে। কিন্তু তদন্ত এগোতেই ঘটনার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। পুলিশ জানায়, এটি কোনও গ্যাংওয়ারের ঘটনা নয়। কী ভাবে অক্ষয় গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তা সাংবাদিক বৈঠক করে জানান পুলিশ সুপার পাপিয়া।

Crime

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy