দুর্যোগের সুযোগে বীজতলার দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিপাকে পড়ে চাষিদের সংগঠন দ্বারস্থ কৃষি দফতরে।
আমন ধানের চাষে সেচের খরচ তেমন প্রয়োজন হয় না। তাই অধিকাংশ কৃষকই জমি ফাঁকা না রেখে চাষ শুরু করেন জুনে। এই পর্বে ১৫০ থেকে ১৬০ দিনের (দীর্ঘমোয়াদী) ধান চাষের জন্য জুনের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলা তৈরি করেছিলেন কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া এলাকার কৃষকেরা। কিন্তু এই দুই ব্লকেই নিকাশি বেহাল। তাই লাগাতার বৃষ্টি হওয়ায় কৃষি জমিগুলি থেকে জল নামতে পারেনি। এতে অধিকাংশ কৃষকের অঙ্কুরিত ধানের বীজ জলের তলায় যায়। এতেই বীজতলা পচে নষ্ট হয়েছে।
চাষিরা জানাচ্ছেন, তাঁরা চাষের জন্য খরচ করে ইতিমধ্যেই বিঘের পর বিঘে জমি তৈরি করে রেখেছেন। এখন বীজতলা নষ্ট হওয়ায় জমি তৈরির খরচ বৃথা যাবে। তাই ফের নতুন করে ১২০ থেকে ১২৫ দিনের ধান চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বহু কৃষক। এখন স্বল্প সময়ের ওই বীজতলা তৈরির জন্য ধানের বীজ কিনতে কৃষকেরা দোকানে ভিড় করেছেন। অভিযোগ, চাহিদা বাড়তেই ব্যবসায়ীরা কালোবাজারি শুরু করেছেন। গত জুনেও যে দামে ধানের বীজ বিক্রি হয়েছে, এখন তা-ই প্রতি কিলোগ্রাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি হয়ে গিয়েছে। জুলাইয়ে এই অতিরিক্ত দরে খরচের বাড়তি বোঝা যাচ্ছে কৃষকদের উপরে।
কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ব্লকের ধান চাষি প্রশান্ত সামন্ত এবং রামপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিতে বীজতলা জনমগ্ন হয়ে পুরোটাই নষ্ট। নতুন করে জমি চাষ করে ফের তলা ফেলতে হচ্ছে। এই সুযোগে ধানের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন।’’ বিষয়টি নিয়ে সরব কৃষকদের সংগঠন। ‘কৃষক সংগ্রাম পরিষদে’র সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘‘কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী লাগাতার ধানের বীজের দাম বৃদ্ধি করছেন। কৃষি দফতর যাতে অবিলম্বে এই কালোবাজারি রখতে পদক্ষেপ করে, আমরা সেই দাবি করেছি।’’
দাম যে বেড়েছে, তা মানছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় এই পরিস্থিতি। এক ব্যবসায়ী উত্তম মান্নার কথয়া, ‘‘প্রতি বছর এলাকার চাহিদা অনুযায়ী বীজ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট পরিমাণের বীজ তৈরি করেন। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ বীজ বিক্রি হয়েছে। দুর্যোগের কারণে কৃষকেরা ফের বীজ কিনছেন। তাই পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি স্টক পয়েন্ট থেকে বীজ এনে তাঁদের দিতে হচ্ছে। পরিবহণ খরচ বাড়ায় কিছুটা দাম বৃদ্ধি হয়েছে।’’ এ ব্যাপারে জেলা কৃষি দফতরের এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘নিম্নচাপের জেরে বহু কৃষকের তলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই বীজ ধানের চাহিদা রয়েছে। তবে কালোবাজারি হচ্ছে কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।’’