জমিটি তৃণমূলের। এখানে দলের জেলা কার্যালয় গড়ে ওঠার কথা ছিল। ২০২১ সালে রথযাত্রার দিনে ঘটা করে ভিতপুজোও হয়েছিল। প্রস্তাবিত জেলা কার্যালয় অবশ্য গড়ে ওঠেনি। ঘাসফুলের সেই জমিতে এখন আগাছার বাড়বাড়ন্ত।
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই ভাঙন চলছে তৃণমূলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দলের দুই বিধায়ক, খড়্গপুরের (গ্রামীণ) দীনেন রায়, কেশপুরের শিউলি সাহা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাই ওই জমির রাশ কোন শিবিরের হাতে থাকবে,তা নিয়ে দলের মধ্যে গুঞ্জনও রয়েছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং বিদ্রোহী শিবির, দুই পক্ষেরই দাবি জমিটির উপর তাদেরই অধিকার রয়েছে। আগামী দিনে সেখানে দলের জেলা কার্যালয় গড়ে তোলা হবে। কালীঘাট তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন অজিত মাইতি। দলের বিদ্রোহী শিবিরের জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন প্রদীপ সরকার। দলীয় কার্যালয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে অজিতের জবাব, ‘‘দলে আলোচনা করে আগামী দিনে কাজ হবে।’’ আর প্রদীপ বলছেন, ‘‘আমরাই আসল তৃণমূল। ওখানে আমরাই দলের জেলা কার্যালয় তৈরি করব।’’
২০১৩ সালে দলের জেলা কার্যালয় তৈরির জন্য শহরের রবীন্দ্রনগরে জমি কিনেছিল তৃণমূল। দফায় দফায় চাঁদা তোলা হলেও সে সবের না কি কোনও হিসাব নেই! দলের এক সূত্রের দাবি, জমিটি কিনতে এবং দলিল করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা। জেলার সদর শহর মেদিনীপুর। মেদিনীপুরে প্রায় সব রাজনৈতিক দলেরই নিজস্ব জেলা কার্যালয় রয়েছে। নেই শুধু তৃণমূলেরই। অথচ, জেলার বেশিরভাগ ব্লকে দলের নিজস্ব ব্লক কার্যালয় রয়েছে। জমি কেনার পর তা পড়েই ছিল। ২০২১ সালে রথযাত্রার দিনে এখানে ভিতপুজো হয়েছিল। একাধিক প্রোমোটারকে ভিতপুজোয় দেখা গিয়েছিল। নেতৃত্বের দাবি ছিল, ওঁরা দলের শুভাকাঙ্খী! ওই প্রোমোটারদের এখন গেরুয়া শিবিরের কর্মসূচিতে দেখা যায়। গত বিধানসভা ভোটের মুখে, দীনেন রায় যখন দলের জেলা চেয়ারম্যান তখন একতল কার্যালয় তৈরির পরিকল্পনা হয়। বাধ সাধেন দলের তৎকালীন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার অনুগামীরা। সুজয়েরা ভেবেছিলেন দল ক্ষমতায় ফিরলেই তিন বা চারতলের দলীয় কার্যালয় তৈরির তোড়জোড় শুরু হবে। সেই জমিতে এখন বেড়েই চলেছে আগাছা।