পুজোর মুখে অনিশ্চয়তা ঝাড়গ্রাম শহরের ৫০ বছরের পুরনো কাগজ কলে। ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের বেতন-মজুরি আটকে রয়েছে। তার উপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে বন্ধ উৎপাদন ও কাজকর্ম। ফলে দুশ্চিন্তায় ৫২৫ জন কর্মী-শ্রমিক।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কাগজ কলে মূলত ডুপ্লেক্স বোর্ড ও প্যাকিং পেপার তৈরি হত। প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বার মালিকানা হাতবদল হয়েছে। ২০০৬ সালে বর্তমান কর্তৃপক্ষ কারখানাটির মালিকানা নেন। আগের মালিকদের নামে অগ্নি-নিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল বলে কাগজ কল সূত্রে জানা গিয়েছে। কাগজ কলের ম্যানেজার তাপস দে জানান, ২০২২ সালে বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজেদের নামে নতুন অগ্নি-নিরাপত্তার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করে প্রাথমিক অনুমোদন পান। পরে দমকল অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট জলের লাইন তৈরির শর্ত দেয়। সেই কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে পরিদর্শনের পর অনুমোদন বাতিল হয় বলে তাঁর দাবি।
কাগজ কল সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নি-নিরাপত্তার ছাড়পত্রের সমস্যা তৈরি হওয়ার পর ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ বিল মেটানো সম্ভব হয়নি। জুন ও জুলাই মাসের বিল মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা বকেয়া পড়ে। ১৮ অগস্ট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তার আগেই অবশ্য উৎপাদন ও কাজকর্ম বন্ধ ছিল।
কাগজ কলে ২২০ জন স্থায়ী কর্মী, বাকিরা অস্থায়ী। জুন পর্যন্ত বেতন দেওয়া হলেও জুলাইয়ের বেতন-মজুরি বকেয়া রয়েছে। লে-অফ বা লক-আউট ঘোষণা হয়নি। কর্মীরা হাজিরা দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বকেয়া প্রাপ্য নিয়ে শ্রমিকদের তরফে শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জেলা শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি জেলার যুগ্ম শ্রম কমিশনার (পার্সোনেল) এর দফতর কক্ষে মধ্যস্থতা বৈঠক হয়। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি ও কাগজ কল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রথম বৈঠকে কোনও চূড়ান্ত সমাধানসূত্র মেলেনি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ফের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অনুমোদিত কাগজ কলটির একমাত্র শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক নিশীথ মাহাতো বলেন, “দ্রুত অগ্নি-নিরাপত্তার ছাড়পত্রের ব্যবস্থা না হলে বেতন-মজুরি পাওয়ার সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।”
কাগজ কল সূত্রে খবর, দমকলের শর্ত মেনে অগ্নি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দমকলের পরিদর্শনের মাধ্যমে নতুন করে অগ্নি-নিরাপত্তার ছাড়পত্র পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। ছাড়পত্র মিললে ব্যাঙ্কের লেনদেন চালু করে বকেয়া বেতন ও বিদ্যুৎ বিল মেটানোর পথ খুলবে বলে কর্তৃপক্ষের আশা।