দোকান না শপিংমল! নাকি অনলাইন! এই দ্বিধা ঘুরে ফিরে আসছে পুজোর কেনাকাটায়।
পুজোর আগে শেষ রবিবার, দেবীপক্ষের প্রতিপদে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন বাজারেও সেই ছবিই ধরা পড়ল। মেদিনীপুরের বড়বাজার-সহ বিভিন্ন বাজারে এ দিন ভিড় ছিল। শপিং মলগুলিতেও ভিড় দেখা গিয়েছে। মেদিনীপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মলয় রায়ের কথায়, ‘‘পুজোর বাজার জমেছে।’’ গড়বেতার তিনটি ব্লকেও রবিবাসরীয় পুজোর বাজার ছিল জমজমাট। অনেকে অনলাইনেও কেনাকাটা করছেন। গড়বেতার বিমা এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল, প্রাথমিক শিক্ষক সুদীপ মাইতিরা বললেন, ‘‘অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে সস্তায় পাব বলে সেখান থেকেই কিনছি। বাজারে গেলে সময়ও চলে যায়।’’ রবিবার সকাল থেকে ঘাটাল শহরের বিভিন্ন দোকান ও শপিংমলগুলোতেও ঠাসা ভিড় ছিল। বীরসিংহের তরুণী রূম্পা খামরুই বলছিলেন, ‘‘বন্যার কারণে এতদিন ঘাটালে আসিনি। এখন পুজোর বাজার করছি।’’
খড়্গপুরের শহরে গোলবাজার, গেটবাজারের মতো রেলের বাজার থেকে তালবাগিচা, প্রেমবাজার আবার ভিড় দেখা যায়নি। খারাপ পরিস্থিতি ছিল গোলবাজারেরও। গোলবাজার ক্লথ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী কৃষ্ণকমল আগরওয়াল বলেন, ‘‘এই রেলের বাজারে পার্কিং-সহ পরিকাঠামোর অভাব। ক্রেতা আসতেই চায় না।’’ যদিও এই শহরেই মালঞ্চ, ইন্দা এলাকায় থাকা বিভিন্ন শপিং মলে অবশ্য ভিড় উপচে পড়েছিল। মালঞ্চর একটি শপিং মলের স্টোর ম্যানেজার সৌমেন মণ্ডল বলেন, ‘‘পুজোর আগের শেষ রবিবার বলে ভিড় বেশি ছিল।’’
ঝাড়গ্রাম শহরের জুবিলি বাজার থেকে মেন রোডের জামাকাপড়ের দোকানগুলিতেও ক্রেতাদের আনাগোনা তুলনায় কম ছিল। অন্য দিকে, শপিং মলগুলিতে ছিল ঠাসা ভিড়। জুবিলি বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী দেবাশিস ঘোষ বলেন, “মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে।” মেন রোডের একটি ছেলেদের পোশাক দোকানের মালিক শঙ্কর মান্নারও দাবি, গ্রামের ক্রেতাদের একাংশ শহরে এসে সরাসরি শপিং মলে চলে যাচ্ছেন। শপিং মলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে কেন? শিলদার বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক হর্ষনারায়ণ মণ্ডলের কথায়, ‘‘সেখানে নানা ব্র্যান্ডের পোশাক মেলে। অফারও থাকে। ঝাড়গ্রামের বেনাগেড়িয়ার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী সুমার্জিতা মজুমদার আবার বলছেন, ‘‘পুজোর জামাকাপড় অনলাইনেই কিনেছি। ভিড়ের মধ্যে কে যাবে! সময়ও নেই।”