E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

জ্ঞানেশ্বরী নাশকতায় নিখোঁজকে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ, মানল রেল

২০১০ সালের ২৭ মে রাতে হাওড়া থেকে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ আটা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩২
দুর্ঘটনার দিন।

দুর্ঘটনার দিন। ছবি: সংগৃহীত।

জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস নাশকতায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২১ জন। তাঁদের দেহ উদ্ধার না হওয়ায় ও ডিএনএ পরীক্ষার জটে মৃত্যুর শংসাপত্রও পেলেনি। তবে সেই ২১ জনেরই একজনকে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা আদালতে জানালেন রেল কর্তৃপক্ষ, যা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

ওই নিখোঁজ যাত্রীর নাম প্রসেনজিৎ আটা। তাঁর পরিবারকে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তথ্য মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম দেওয়ানি আদালতে পেশ করেছে রেল। সমন পেয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের কমার্শিয়াল ম্যানেজারের প্রতিনিধি কে. ঝা আদালতে হাজির হন। রেলের আইনজীবী সুমন সেন ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নথি আদালতে জমা দেন।

২০১০ সালের ২৭ মে রাতে হাওড়া থেকে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ আটা। গন্তব্য ছিল মুম্বই। গভীর রাতে খেমাশুলি ও সরডিহা স্টেশনের মাঝে ঝাড়গ্রামের রাজাবাঁধ এলাকায় নাশকতার জেরে লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটি। পরে উল্টো দিক থেকে আসা একটি মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে সরকারি হিসাবে ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ২১ জনের দেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। প্রসেনজিৎ তাঁদেরই একজন।

দেহ উদ্ধার না হওয়ায় এবং ডিএনএ পরীক্ষাতেও পরিবারের নমুনার সঙ্গে কোনও দেহাবশেষের মিল না মেলায় প্রসেনজিতের মৃত্যুর শংসাপত্র পায়নি পরিবার। যে সময় ওই ঘটনা ঘটেছিল, তখন ঝাড়গ্রাম পৃথক প্রশাসনিক জেলা হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য তৎকালীন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং তৎকালীন ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছিলেন প্রসেনজিতের স্ত্রী যূথিকা আটা। সুরাহা না হওয়ায় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম দেওয়ানি আদালতে ‘সিভিল ডেথ ডিক্লেয়ারেশন’-এর মামলা করেন তিনি।

মামলা চলাকালীন ২০২২ সালের ৩ এপ্রিল যূথিকার মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের ১৩ মে সাবালিকা হওয়ার পর যূথিকার মেয়ে পৌলমী আটা মামলায় যুক্ত হন। বর্তমানে তাঁর বয়স ২১ বছর।

পৌলমীর আইনজীবী তীর্থঙ্কর ভকত জানান, রেলের তরফে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তথ্য আদালতে পেশ করা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালে প্রথমে ২৫ হাজার এবং পরে আরও ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা—মোট পাঁচ লক্ষ টাকা যূথিকা আটাকে দেওয়া হয়েছিল। তীর্থঙ্কর বলছেন, “এত বছর পরেও মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য পরিবারকে ঘুরতে হচ্ছে। প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। সমন পেয়েও জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার আদালতে হাজির হননি— এটা দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি জানান, মামলার সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের তৎকালীন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে সমন পাঠিয়েছিল আদালত।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Jhargram Indian Railways

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy