বর্ষার সময় প্রতি বছরই এক-দু’মাস জলের তলায় থাকে সড়ক। জল ভেঙে নিত্যদিন পাঁশকুড়া ও ময়না বিধানসভার কয়েক হাজার বাসিন্দাকে যাতায়াত করতে হয়। এ বছরও একই ছবি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাল সংস্কার না হওয়ায় জল নামতে পারে না কংসাবতী নদীতে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুতই নিকাশি সমস্যার সুরাহ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের পুরুষোত্তমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় ময়নায়। গত বছর প্রজাবাড়ে দুই বিধানসভার সংযোগকারী সেতু গড়ে ওঠে। যোগাযোগের সুরাহা হলেও অন্য সমস্যা দেখা যায়।
প্রজাবাড় সেতু থেকে পুরুষোত্তমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসা যায় পাঁশকুড়ায়। পথটি রাধাবল্লভচক ও পুরুষোত্তমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে সেচ দফতরের দেওয়ানি খালের পাড় বরাবর। গুরুত্ব বুঝে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তাটি তৈরি হয়। অভিযোগ, তার পরেই দেওয়ানি খাল সংস্কারের কাজ শুরু করে সেচ দফতর। বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাল সঠিক ভাবে সংস্কার না হওয়ায় নিকাশি বাধা পাচ্ছে। তার উপর কংসাবতী নদীর রাজগাছতলা এলাকায় খালের সঙ্গে সংযোগের অংশও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা যায়নি। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাত কিলোমিটার রাস্তার প্রায় তিন কিলোমিটার জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর ভাবে খাল খননের জন্য একাধিক জায়গায় রাস্তা বসে গিয়েছে। ভাঙা রাস্তা জলের তলায় থাকায় দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিত্যদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এলাকায় রয়েছে পূর্ব চিল্কা লালচাঁদ হাই স্কুল, ডাবুয়া পুকুর জুনিয়র হাই স্কুল, বৈদিবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্ন পুরুষোত্তমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ কয়েকটি বিদ্যালয়। কয়েক হাজার পড়ুয়া ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। কলাগেছিয়া, নিত্যানন্দচক, বৈদিবাড়, সাধুয়াপোতা, পূর্ব চিল্কা, পশ্চিম চিল্কা সহ প্রায় ১০-১২টি গ্রামের বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়েছেন। ময়না বিধানসভার অধিকাংশ বাসিন্দা ওই পথ ছেড়েছেন। নিকাশি সমস্যার জন্য আমন ধানের চাষ বন্ধ প্রায় ১৫ বছর।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুস্মিতা প্রামাণিক বলেন, ‘‘গত সরকারের আমলে মাটি বিক্রির জন্য খালের একাধিক জায়গায় গভীর ভাবে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। যার কারণে রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। জলে ডোবা ওই ভাঙা রাস্তা দিয়েই প্রতি বছর আমাদের পারাপার হতে হয়। নতুন সরকার আশা করি কোনও ব্যবস্থা করবেন।’’ স্কুল পড়ুয়া অমিত মণ্ডলের অভিযোগ, ‘‘এক হাঁটু জল পেরিয়ে স্কুল যেতে হয়। ভয় লাগে। কিছু কিছু জায়গা রাস্তা ভাঙা থাকায় অনেকেই সাইকেল নিয়ে খালে পড়ে গিয়েছে।’’
বর্ষা কাটলেই খাল ও রাস্তা সংস্কার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পাঁশকুড়া ব্লকের বিডিও মোহন বর্মা। তিনি বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাস্তাটি পুনরায় নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। তা পাওয়া গিয়েছে। খালটি বর্ষা কাটলেই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে নিকাশি সমস্যার সমাধান করা হবে।’’