এখনও মুক্তি মেলেনি জলযন্ত্রণা থেকে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জলে ডুবে রয়েছে এলাকার বহু স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কোমর ও হাঁটু সমান জল পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে কর্মী, সহায়িকা এবং শিক্ষকদের। পড়াশোনা বা রান্না হচ্ছে না স্কুল কিংবা অঙ্গনওয়াড়িতে। শিশুদের শুধু দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার। এই যন্ত্রণা থেকে কবে পরিত্রাণ মিলবে, কেউ জানেন না।
বেহাল জলনিকাশি ও অতিবৃষ্টিতে পটাশপুরের পাশাপাশি ভগবানপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়। তিন সপ্তাহ পরেও সেই জলযন্ত্রনার ছবি বদলাইনি ভগবানপুরে কোটবাড় ও কাজলাগড়-সহ গুড়গ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এখনও রাস্তার উপর কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। স্কুলের মধ্যেই জলে ভেসে বেড়াচ্ছে ব্যাঙ-সাপ। শ্রেণিকক্ষে হাঁটু সমান জল। প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভগবানপুরে একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলে রান্না করা যাচ্ছে না। জলে ডুবে রয়েছে উনুন। ভেসে গিয়েছে জ্বালানি।
চড়াবাড় ও কলাবেড়িয়া এলাকার রাস্তায় কোমরজল থাকায় স্কুলে চাল ও ডাল পৌঁছানোর উপায় নেই। অনেক কেন্দ্রে খাবার সরবরাহকারী গাড়ি ঢুকতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের নির্দেশে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি থেকে সপ্তাহে একদিন করে শিশুদের শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ থাকলেও নিয়মিত কোমর সমান জল পেরিয়ে হাজিরা দিতে নাজেহাল হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি অনেক জায়গায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্লাব ঘরে বা অন্যের বাড়িতে চলছে।
দ্রুত জলনিকাশির জন্য ভগবানপুরে কলাবেড়িয়া-সহ একাধিক খালে পানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। এগরার মহকুমাশাসক কর্মবীর কেশব বলেন, ‘‘জল থাকায় বেশকিছু স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। শুকনো খাবার দিতে হচ্ছে। জল নামলে রান্না শুরু হবে'।