রোবট, ড্রোন, ল্যাপটপে আগ্রহ রয়েছে। শিখতে চায় শিশুরা। তবে সে শিক্ষা মাতৃভাষায় নিজস্ব লিপিতে পেতে আগ্রহী তারা। জঙ্গলমহলের শিশুদের এই আগ্রহ পূরণেই অলচিকি লিপিতে বই লিখেছেন প্রযুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক অনির্বাণ দাস। তাঁর ‘আমাদের জঙ্গল, আমাদের বিজ্ঞানের পাঠশালা’ বিজ্ঞান শেখার প্রাথমিক পাঠ। যে পাঠ আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে জনজাতি গোষ্ঠীর চিরাচরিত জ্ঞানের সংমিশ্রণ।
জঙ্গলমহলের জেলা ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেন অনির্বাণ। প্রত্যন্ত গ্রামে ২২ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন তিনি। অনির্বাণ জানান, হাতেকলমে বিজ্ঞান শেখাতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন, জঙ্গলমহলের শিশুদের রোবট থেকে ড্রোন, ল্যাপটপ-সহ আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে প্রবল আগ্রহ। কিন্তু প্রাথমিক পাঠ তারা নিতে চায় নিজস্ব ভাষায়। এই আগ্রহ তাঁকে বই লেখায় প্রেরণা দেয়।
জঙ্গলের জীববৈচিত্র, মাটি-জল-বায়ু, শক্তি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য কথা রয়েছে বইয়ে। সেই সঙ্গে রয়েছে আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের মতো বিষয়। চিরাচরিত জ্ঞানের এই বিষয়টি ঠাঁই পেয়েছে হাতেকলমে পরীক্ষার মাধ্যমে। শাল-পিয়াল-মহুয়ার জঙ্গল, লালমাটি, নদী-ঝরনা, ভেষজ চিকিৎসা কিংবা রান্নার পদ্ধতির মতো চেনা বিষয়কেও সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শিশুমনে এই বইয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনির্বাণ বলেন, ‘‘নিজের চেনা শব্দে ও সুরে পাঠ নিলে শিশু অক্ষরে বন্দি থাকে না। বরং যুক্তি দিয়ে ভাবতে, প্রশ্ন করতে ও মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে শেখে। মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের পথে শিশুদের এগিয়ে নেওয়াই বইয়ের মূল লক্ষ্য।’’
প্রযুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক অনির্বাণ বইটি লিখতে অলচিকি লিপির শিক্ষা নিয়েছেন। জঙ্গলমহলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেন তাঁদের থেকেই লিপি শিক্ষা। তাঁর আশা, মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমেই উঠে আসবেন আগামীর বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।
প্রতিবাদে শিল্পীরা
ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের জনপ্রিয় ঝুমুর শিল্পী রজনী পাত্র মাহাতোর মৃত্যুর চার দিন পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সোমবার ঝাড়গ্রাম শহরে পথে নামলেন জেলার ঝুমুর শিল্পীরা। নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে রজনীর মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। নিরপেক্ষ তদন্ত, মেডিক্যাল বোর্ড গঠন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ দিন পাঁচমাথা মোড় থেকে মিছিল করেন ঝুমুরশিল্পীরা।