E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

হার-জিতের ব্যবধানে নজর সংখ্যালঘু ভোটে

উপ-নির্বাচনে শাসকদল বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত ধরা গেলেও তাদের জয়ের ব্যবধান নির্ভর করবে সংখ্যালঘু ভোট প্রাপ্তির উপর।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৩
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

'হাই ভোল্টেজ' নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট অন্যতম ‘নির্ণায়ক’ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞেরা। কারণ, নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠই (৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন) সংখ্যালঘু। পাশাপাশি, নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকে ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি সংখ্যালঘু ভোটার।

উপ-নির্বাচনে শাসকদল বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত ধরা গেলেও তাদের জয়ের ব্যবধান নির্ভর করবে সংখ্যালঘু ভোট প্রাপ্তির উপর। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থায় নন্দীগ্রামে প্রায় প্রতিপক্ষহীন ভোট-ময়দানে নেমে জয়ে বড় ব্যবধান বজায় রাখা বিজেপির শ্লাঘারক্ষায় খুবই জরুরি। ফলে সংখ্যালঘু ভোটের কথা তাদের মাথায় রাখতেই হচ্ছে।

নন্দীগ্রামে ৬ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে এক জন গণতান্ত্রিক তৃণমূল, এক জন আইএসএফের এবং এক জন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়ছেন। বাকি তিন জন নির্দল হিসেবে লড়াই করছেন, যা নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬ জন প্রার্থী হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বার উপ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানী রথকে রেকর্ড এক লক্ষ দশ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি নেতারা। ছয় মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে উপনির্বাচনে কী ভাবে নিজেদের জয়ের ব্যবধান ২১ গুণ বৃদ্ধি করতে পারবে পদ্ম শিবির, তাই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই প্রকাশ্য সভা থেকে বলেছিলেন,'এই উপনির্বাচন সরকার এবং তাঁর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার জন্য একটা সুযোগ। এতে পাশ ফেলের দায়িত্ব সংখ্যালঘুদের নিজেদের হাতেই।'

নন্দীগ্রাম -১ ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে ৭৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী এতেশামুল হক প্রচারে নামেননি। মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী না থাকায় সংখ্যালঘুদের সমর্থন ইভিএমে কার দিকে যাবে, তা একপ্রকার অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে অধিক সংখ্যক সংখ্যালঘু প্রার্থী হওয়ার পেছনে বিজেপির ভোট ভাগাভাগির কৌশল দেখছে বিরোধীরা। আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ আলি বলেন,"দেখছি তো তৃণমূলের একটা গোষ্ঠীর প্রার্থীর মনোনয়নের প্রস্তাবক বিজেপির লোকজন। ওরা চাইছে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাক। তার জন্য পরিকল্পনা করে ৬ জনকে দিয়ে মনোনয়ন করানো হয়েছে।"

বামফ্রন্টের প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি বলেছেন,"গত বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের পার্টির পোলিং এবং কাউন্টিং এজেন্টদের তালিকা বিজেপির কাছে ছিল। এ বারও বিরোধী ভোট যত ভাগাভাগি হবে তত বিজেপি প্রার্থী জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নেবে ভাবছে।" জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী শেখ হাসিবুলের মতে,"বিজেপি সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতে চাইছে। কিন্তু আমরা হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের সমর্থন পাব।’’ যদিও বিজেপি তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন,"বিরোধীদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ নতুন সরকারের উন্নয়ন দেখে খুশি। তারা বিজেপি-র প্রার্থীকে দু'হাত ভরে আশীর্বাদ করবেন।"

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nandigram

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy