জল এখনও সরেনি। মাঝে মধ্যে হচ্ছে বৃষ্টিও। তবে স্কুলের পঠনপাঠন তো বন্ধ থাকতে পারে না। তাই হাঁটু সমান জমা জলেই খুলেছে স্কুল। তা ডিঙিয়ে স্কুলে যাচ্ছে পড়ুয়ারা। কোনও প্রাথমিক স্কুলে আবার জল বেশি থাকায় খুদে পড়ুয়াদের দিকে বাড়তি নজর রাখতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
হলদিয়ায় বাণেশ্বরচক হাই স্কুলে পুরো মাঠে হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে। সেই জমা জলে ভাসছে শেওলার আস্তরণ। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, কেউ ক্লাস থেকে বাইরে বেরোতে পারছে না। প্রধান শিক্ষিকা নীলিমা সামন্ত বলেন, ‘‘চারদিকে জল ও পানা। পড়ুয়াদের তাই মাঠে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বারান্দায় তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। মিড-ডে মিলের রান্না ঘরও ডুবেছে। ভেজা উনুনের ওপর টালি বসিয়ে রান্না করতে হচ্ছে।’’
রঘুনাথপুর জুনিয়র হাই স্কুলের অবস্থা আরও খারাপ। স্কুলের তিনটি কক্ষে শতাধিক পড়ুয়া-অভিভাবক আশ্রয় নিয়েছেন। ১৬ অগস্ট থেকে পড়াশোনা বন্ধ। প্রধান শিক্ষক সুরজিৎ গুছাইত জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারকে চিঠি দিয়ে অবস্থা জানিয়েছেন। বজ্রপাতে স্কুলের ১৫টি পাখা, তিনটি কম্পিউটার, লাইব্রেরি ও স্মার্ট ক্লাস নষ্ট। সাব মার্সিবল পাম্প ডুবে নষ্ট। সুরজিৎ সুরজিৎ বলেন, ‘‘স্কুল কবে স্বাভাবিক হবে বলা শক্ত। স্থানীয় শিক্ষা আধিকারিক থেকে সুতাহাটার বিডিও বিষয়টি জানেন। ওঁদের পরামর্শেই জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।’’
রঘুনাথপুর স্কুলের পাশেই মসনদি আলা গার্লস মাদ্রাসায়ও স্থানীয়রা আশ্রয় নিয়েছেন।সেখানেও পড়াশোনা বন্ধ। একই ভাবে পরাণচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। জল কমেছে, অভিভাবকরা বাড়ি ফিরেছেন। তবে স্কুলের সরাঞ্জম নষ্ট হয়েছে। প্রধান শিক্ষক সুকুমার শেঠ বলেন, ‘‘জল কমতে অভিভাবকরা বাড়ি ফিরেছেন। ক্লাস শুরু করতে পেরেছি। তবে ওদের বই খাতা সহ বেশ কিছু শিক্ষা সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে।’’
বন্যায় বই-খাতা নষ্ট হওয়ায় হলদিয়া বন্দরের একটি পণ্য পরিবহণ সংস্থা বৃহস্পতিবার বৈষ্ণবচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০০ পড়ুয়াকে নতুন বই-খাতা ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়েছে।