E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দাঁতের ‘ঈর্ষায়’ লড়াকু রামলাল

জঙ্গলমহলের প্রিয় হাতি রামলালের লড়াইয়ে ইতিহাস দীর্ঘ। শ্যামলালকে ‘এক হাত’ নিয়েছিল সে। বাঁকুড়ায় গিয়ে হারিয়েছিল বড়সড় চেহারার এক গজরাজকে। এ দিনও জয়ের ধারা বজায় রেখেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ অগস্ট ২০২৬ ০১:৪৭
দুই মত্ত গজ। ডান দিকে রামলাল।

দুই মত্ত গজ। ডান দিকে রামলাল। — নিজস্ব চিত্র।

বন্ধু কখন যে শত্রু হয়ে গিয়েছিল। তার পর দফায় দফায় ধুন্ধুমার। সেই লড়াইয়ে তোলপাড় হয়েছিল জঙ্গল। তবে রামলাল অপরাজেয়। সে ভাগিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। কিন্তু লড়াইটা কী নিয়ে তা বুঝে উঠতে পারছেন না দর্শক। বন দফতরও নিশ্চিত নয় লড়াইটা দাঁতের ঈর্ষার নাকি এলাকা রক্ষার। শুক্রবার সকালে ঝাড়গ্রাম ব্লকের কংসাবতী নদীর তীরে সাতপাটি এলাকায় এক দাঁতালের সঙ্গে লড়াই বেঁধেছিল রামলালের।

জঙ্গলমহলের প্রিয় হাতি রামলালের লড়াইয়ে ইতিহাস দীর্ঘ। শ্যামলালকে ‘এক হাত’ নিয়েছিল সে। বাঁকুড়ায় গিয়ে হারিয়েছিল বড়সড় চেহারার এক গজরাজকে। এ দিনও জয়ের ধারা বজায় রেখেছে। বয়স্ক রামলাল এ বার হারিয়েছে তুলনামূলক কম বয়সি এক গজরাজকে। নতুন হাতিটির বয়স ২৫-৩০ বছর। দুই দাঁতালের লড়াই দেখতে ভিড় জমেছিল। সমাজমাধ্যম ভরে উঠেছে দুই মত্ত গজরাজের লড়াইয়ের ছবি-ভিডিয়োয়।

শান্ত স্বভাবের হাতি রামলাল। সাধারণত মানুষজনকে তেড়ে যায় না। রাস্তায় লরি থামিয়ে খাবারের খোঁজ করে। বছর পঁয়তাল্লিশের রামলাল ‘ভদ্র হাতি’ হিসেবেই পরিচিত। তবে গন্ডগোল বাঁধে এলাকায় অন্য হাতি হাজির হলে। বা হস্তিনী-সহ কোনও দল এলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ঝাড়গ্রাম ডিভিশনের রামরামা বিটে সপ্তাহ দুয়েক আগে একটি হাতির দল ছিল। দলের একটি পুরুষ হাতি রয়ে গিয়েছিল সেখানে। রামলাল এলাকায় এলে তার সঙ্গে সখ্য হয়। দু’জনকে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কিন্তু এ দিন সকালে ‘দোস্তজি’ হয়ে যায় ‘দুশমনজি’। শুঁড় জড়িয়ে, দাঁত ঠেকিয়ে শুরু হয় ঠেলাঠেলি। প্রথম দফার লড়াইয়ে রামলালের শুঁড়ে আঘাত লাগে। কিছুটা পশ্চাৎঅপসারণ করে রামলাল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসে লড়াইয়ে ময়দানে। তার পর দফায় দফায় লড়াই চলে। রামলাল জয় ছিনিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত অন্য হাতিটি নদী পেরিয়ে চাঁদড়া রেঞ্জের দিকে চলে যায়।

পুরুষ হাতিদের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াই চলে। আধিপত্য প্রতিষ্ঠা বা প্রজনন মরসুমে সঙ্গিনীকে কেন্দ্র করেও লড়াই বাঁধে। বর্ষায় প্রজননের মরসুমে ‘মস্তি’ হয় হাতিদের। ঝাড়গ্রামের এক বন আধিকারিক বলছেন, ‘‘সাধারণত দলের উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষ হাতিরা লড়াই করে। আবার এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্যে পুরুষ হাতিদের মধ্যে লড়াই বাঁধে। অনেক সময় কোনও পুরুষ হাতির মধ্যে সখ্য হলেও বিশাল চেহারা, লম্বা দাঁত দেখে অন্য পুরুষ হাতি ঈর্ষাবশত আক্রমণ করে। তবে এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই রামলাল দলছুট হয়েও জেলার জঙ্গল এলাকায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে।’’

এ দিন লড়াইয়ের পরে নদীতে ঘণ্টাদুয়েক ডুবে গা ঠান্ডা করে মত্ত গজরাজ রামলাল।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
wildlife Forest department

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy