বেশ আক্রমণাত্মক চায়না। কখনও আক্রমণের বহর মাত্রা ছাড়ায়। মানুষকে ছুটিয়ে মারে দু’কিলোমিটার পর্যন্ত। নাম চায়না হলেও কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আবার আছেও কিছুটা। জঙ্গলমহলের দুরন্ত এই হাতিকে বাগে আনতে পারে এক ও অদ্বিতীয় রামলালই।
চায়না নামকরণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট হাতিটির চেহারা অনুযায়ী। আকারে অন্য হাতির তুলনায় কিছুটা ছোট। তাই এমন নাম। চিনের বাসিন্দাদের ছোট চেহারার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। চেহারায় ছোট হলেও চায়না বেশ ছুটতে পারে। মানুষকেও ছুটিয়ে মারে। হাতিটি কবে জঙ্গলমহলে এসেছিল তা নিয়ে কোনও তথ্য জানা নেই বাসিন্দাদের।
সম্প্রতি, রামলাল পিড়কাটা রেঞ্জ থেকে লালগড়ের ঝিটকা আসার সময়ে তিনটি হাতি সঙ্গী ছিল। ওই তিনটি হাতির মধ্যে চায়নাও ছিল। রামলালকে চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রাণী চিকিৎসকরা সংশয়ে ছিলেন। কারণ, ঘন জঙ্গলে কখন কোনও দিক থেকে এসে চায়না তাড়া করবে তা বোঝা মুশকিল। প্রাণী চিকিৎসক চঞ্চল দত্ত বলছেন, ‘‘চায়না হাতি খুব জোরে তাড়া করে। মানুষজনকে তাড়া করার প্রবণতা খুব বেশি।’’
গত বছর গড় শালবনিতে চারটি হাতিকে উত্ত্যক্ত করছিলেন উৎসাহী কিছু যুবক। ওই দলে চায়নাও ছিল। হাতিটি রাস্তা পার করে তাড়া করেছিল যুবকদের। কিন্তু পরক্ষণেই ওই দলে রামলাল চলে আসে। তার পরই চায়না নিজেকে গুটিয়ে নেয়। রামলাল যে ভাবে চালনা করে সে ভাবে এগিয়ে যায় বাকি হাতিগুলি।
স্বভাব ও চেহারার বৈশিষ্ট্যের কারণে জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা কিছু হাতির নামকরণ করেছেন। রামলালের প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম শ্যামলাল। কানে ছিট ছিট দাগ আছে যে হাতিটির তার নাম দেওয়া হয়েছে কানকাবরি। কাছে গেলে ডিজে বক্সের মতো আওয়াজ করে বলে একজনের নাম ডিজে সার্জন। ওড়িশার সঙ্গে মিলিয়ে একজনের নাম রাখা হয়েছে কলিঙ্গা। আর দাঁত ভাঙা হাতিটির নাম ফগলু। স্থানীয় বাসিন্দারারা বলছেন, ‘‘নামকরণের ফলে আমরা সহজে হাতিকে চিহ্নিত করে এলাকা ছাড়া করতে পারছি। যদি কোনও আক্রমণাত্বক হাতি হয় তা হলে আমরা নিজেদের নিরাপদ করতে পাচ্ছি।’’
বন দফতর সূত্রে খবর, বাসিন্দারাই হাতির নামকরণ করে থাকেন। তাতে চিনতে সুবিধা হয়। অনেক সময়ে বনকর্মীরাও ওই নামগুলি ব্যবহারকরে থাকেন।