E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মহারাষ্ট্র থেকে প্রতারিত দুই পরচুলা ব্যবসায়ী

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে সম্প্রতি অনলাইন প্রতারণার পরপর খবর মিলছে। গত তিন মাসে ২০টির বেশি সাইবার অপরাধের মামলায় টাকা হাতানোর অভিযোগ হয়েছে এই এলাকা থেকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৬
টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিল ভগবানপুর থানা।

টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিল ভগবানপুর থানা। — নিজস্ব চিত্র।

ব্যবসার জন্য কম দামে কাঁচামাল দেওয়ার কথা হয়েছিল মোবাইল ফোনে। বিশ্বাস করে মহারাষ্ট্রের এক ব্যক্তিকে ব্যবসায়ী অনলাইনে টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ভগবানপুর থানার সাইবার অপরাধ বিভাগে যান ভগবানপুরের ওই ব্যবসায়ী। টাকা ফেরত পেয়েছেন তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে সম্প্রতি অনলাইন প্রতারণার পরপর খবর মিলছে। গত তিন মাসে ২০টির বেশি সাইবার অপরাধের মামলায় টাকা হাতানোর অভিযোগ হয়েছে এই এলাকা থেকে। ভগবানপুর এলাকা মানেই পরচুলা কারবারের রমরমা। প্রায় প্রত্যেক বাড়ির লোকজন এই কারবারে জড়িত থাকেন। কারবারে প্রধান মূলধন হল বিশ্বাস। কাঁচামাল আমদানি থেকে পরচুলা বিক্রি, সবই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়।

সম্প্রতি ভগবানপুরের গুড়গ্রামের পরচুলা ব্যবসায়ী শিবশঙ্কর মালির সঙ্গে মহারাষ্ট্রের এক জনের পরিচয় হয়েছিল। সে নিজেকে পরচুলা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। কথা হয়, মহারাষ্ট্র থেকে সে পরচুলার কাঁচামাল পাঠাবে। সে জন্য শিবশঙ্কর গত ২০ জানুয়ারি তার অ্যাকাউন্টে অনলাইনে দু’লক্ষ টাকা পাঠান। দাবি, টাকা পাঠানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিবশঙ্করের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয় ওই ব্যক্তি।

প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ভগবানপুর থানায় সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ জানান শিবশঙ্কর। মামলার ফলে ব্যাঙ্ক প্রতারকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো টাকা ‘হোল্ড’ করে। সাইবার অপরাধ বিভাগ সূত্রে খবর, প্রতারক টাকা তুলে নেওয়ার আগে পদক্ষেপ করা জরুরি। তাতে টাকা ফেরতের আশা থাকে। দীর্ঘ আইনি পদ্ধতি মেনে ভগবানপুর থানার পুলিশ শিবশঙ্করের টাকা উদ্ধার করেছে।

এ দিকে, গত ৩০ এপ্রিল কলাবেড়িয়ার প্রাণকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রও পরচুলার কাঁচামাল পেতে অনলাইনে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তিনিও মহারাষ্ট্রেরই একজনকে টাকা পাঠান। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে এক ঘণ্টার মধ্যে ভগবানপুর থানার সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করেন প্রাণকৃষ্ণ। তাঁর টাকাও পুলিশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা টাকা শিবশঙ্কর ও প্রাণকৃষ্ণকে রবিবার রাতে ফিরিয়ে দিয়েছে ভগবানপুর থানার পুলিশ।

গত এপ্রিল থেকে জুন মাসে ভগবানপুরে নানা কায়দায় অনলাইন প্রতারণার চেষ্টা হয়েছে। গ্যাসের ভর্তুকি, বিদেশ থেকে উপহার পাঠানো, কম দামে পরচুলার কাঁচামাল পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়। ওয়টস্যাপে বিভিন্ন লিঙ্ক পাঠিয়েও প্রতারণার চেষ্টা হয়েছে। ২০টির বেশি অভিযোগ ভগবানপুর সাইবার অপরাধ বিভাগে জমা পড়েছে। অনেকের মোবাইল ফোন হ্যাক করে গোপন ছবি পরিজনদের পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। ভগবানপুর থানার সাইবার অপরাধ বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে। আর প্রতারণা দ্রুত সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানালে অনেকটা সুরাহা হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Fraud Case Fraud

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy