পরিবর্তনের বাংলায় পুজো-অনুদানের মাপকাঠি কী! তৈরি হয়েছে ধন্দ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, সবাই এই অনুদান পাবে না। যে পুজো কমিটি আবেদন করবে তাদেরই দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেও দিয়েছেন, ‘‘বড় বাজেট যাঁদের, তাঁদের বলব আপনারা সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য নেবেন না।’’ এই বড় ও ছোট পুজোর মাপকাঠি নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। অনেক পুজো উদ্যোক্তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গ্রামাঞ্চলে যেগুলো বড় পুজো বলে পরিচিত তাদের অনেকেরই বাজেট তুলনায় অনেকটাই কম। শহরের অনেক বড় পুজো বেশি বাজেটের। তবে সেখানেও কম বাজেটে আড়ম্বরের থিম করে এমন পুজোর সংখ্যাও কম নয়।
গড়বেতার একটি পুজোর বাজেট প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ওই পুজোর এক কর্মকর্তার প্রশ্ন, ‘‘আমরা কি বড়, না ছোট পুজোর মধ্যে পড়ব? আবেদন করব?’’ খড়গপুরের অন্যতম বড় পুজো বলে পরিচিত সাউথ ডেভেলপমেন্ট সঙ্ঘশ্রীর কর্মকর্তা অয়ন সেন বলেন, ‘‘মানুষের চোখে আমাদের পুজো বড় হলেও বাজেট ৬ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু বাজেটের মাপকাঠি বলেননি তাতে বুঝতে পারছি না অনুদান পাব কি না। আবেদন করব। অনুদান না পেলে থিম থেকে সরে সাবেকি পুজোয় ফিরব।’’
বড় বাজেটের অনেক পুজোই আবার আবেদন না করার কথাই জানাচ্ছে। তালবাগিচা স্কুল মাঠের নেতাজি ব্যায়ামাগার পুজো কমিটির বাজেট এবার প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে খবর। ওই পুজো কমিটির সম্পাদক শোভন সমাঝদার বলেন, ‘‘যদি মুখ্যমন্ত্রী বলে থাকেন বড় পুজোগুলি সরকারি অনুদান পাবে না তাহলে অসুবিধা নেই।’’ মেদিনীপুরের বড় বাজেটের পুজোগুলির অন্যতম রাঙামাটি সর্বজনীনের সম্পাদক সুশান্ত ঘোষও বলছেন, ‘‘আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকারি সাহায্য এ বার না নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এ বার বিদ্যুতের বিলে ১০০ শতাংশ ছাড় মিলবে। দমকলের ছাড়পত্র নিতেও টাকা খরচ করতে হবে না। এমন সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’’
ঝাড়গ্রাম জেলার অধিকাংশ পুজোর বাজেটই তুলনামূলক ভাবে কম। ঝাড়গ্রাম শহরের ‘পূর্বাশা’ পুজো কমিটির কর্মকর্তা বিশ্বনাথ পানিগ্রাহী জানিয়েছেন, তাঁদের বাজেট ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে। তিনি বলছেন, ‘‘সরকারি অনুদান পেলে পুজোর আয়োজনে তা কাজে লাগবে।” ঝাড়গ্রাম অফিসার্স ক্লাবের পুজোর বাজেট প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। ওই পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা চন্দন সৎপথী জানিয়েছেন, সরকারি অনুদান না নেওয়ার পক্ষেই রয়েছেন সদস্যরা।
ধন্দে পারিবারিক পুজোগুলিও। এই পুজোগুলি অনুদান পাবে কি না, তা নিয়ে সরকারের তরফে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয় নি। গড়বেতার একটি প্রাচীন পারিবারিক পুজোর কর্তা গোপাল ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘আমরা ঐতিহ্য মেনে পুজো করি। বাজেট খুবই অল্প। অনুদান পেতে আবেদন করব কি না বুঝতে পারছি না।’’ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এক রাজপরিবারের সদস্য (যিনি শাসক দলের কর্মীও বটে) বললেন, ‘‘অনুদান পাব কি না জানি না। তবে এবার আমাদের পরিবারের পুজোর বাজেট কমানো হয়েছে।’’
জেলার এক সরকারি আধিকারিক অবশ্য বলছেন, ‘‘যাঁদের প্রয়োজন তাঁরাই পুজো অনুদানের জন্য আবেদন করবেন, এটা তো পরিষ্কার করে দেওয়াই হয়েছে। ধন্দের তো কিছু নেই।’’