E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পড়ে থেকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পুলিশ ব্যারাক

মাত্র তিন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করেছিল ঠিকাদার সংস্থা। ভবনের গায়ে পড়েছিল নীল-সাদা রঙের প্রলেপ। কিন্তু ভবনটির উদ্বোধন পর্যন্ত হয়নি।

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০২:৫৫
একা দাঁড়িয়ে ভবানীপুরের পুলিশ ব্যারাক। সামনে চারদিকে মাঠে জমেছে জল।

একা দাঁড়িয়ে ভবানীপুরের পুলিশ ব্যারাক। সামনে চারদিকে মাঠে জমেছে জল। নিজস্ব চিত্র ।

কাজ শেষ হয়েছিল দ্রুত। নীল-সাদা রঙেও দ্রুত সেজেছিল। সেই রঙের ঔজ্জ্বল্য কমেছে। সরকার বদলেছে। রাজ্যে নীল-সাদার জায়গায় গেরুয়া রং উজ্জ্বল হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ ব্যারাকের উদ্বোধন হয়নি। দেড় দশক ধরে পড়ে থেকে দোতলা পাকা ভবন এখন ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় পুলিশ ব্যারাকের এই হাল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

শিল্পশহর হলদিয়ার ভবানীপুর মৌজায় গড়ে উঠেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ ব্যারাক। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার ডিপোর পাশে দোতলা ভবন গড়ে তোলা হয়। হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এইচডিএ) সূত্রের খবর, ২০১১-১২ আর্থিক বছরে ব্যারাক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট বছরে ৯৮তম বোর্ড মিটিংয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এইচডিএ। খরচ হয় ৫২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮১৫ টাকা।

মাত্র তিন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করেছিল ঠিকাদার সংস্থা। ভবনের গায়ে পড়েছিল নীল-সাদা রঙের প্রলেপ। কিন্তু ভবনটির উদ্বোধন পর্যন্ত হয়নি। দীর্ঘ দেড় দশক পড়ে থেকে ওই ভবনের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। নীচতলায় জানলার কাচ ভাঙা। কোথাও সুইচ বোর্ড আলগা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভবনের সামনে বিরাট এলাকা জুড়ে জল থইথই পরিস্থিতি। অদূরে ব্যারাকের কাজের সূচনা-ফলক বসানো হয়েছিল। সেটির চারদিক ঢাকা পড়েছে বাসিন্দাদের গৃহস্থালীর জিনিসে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলছেন, ‘‘কত বছর ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। দু’একবার সাহেবরা এসেছেন দেখেছি।’’ অভিযোগ, ফাঁকা বাড়িতে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা রয়েছে। ভবানীপুরের বাসিন্দা স্বপন দাস, বুলবুল হোসেনরা প্রমুখ বলছেন, ‘‘এ ভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে একের পর এক সরকারি পরিকাঠামো। আমরা চাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জেলায় পুলিশের সব পরিকাঠামো ব্যবহার করা হোক। তাতে এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে।’’

জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ব্যারাক হিসেবে গড়ে উঠলেও আদতে ভবনটি পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীদের পরিবার নিয়ে থাকার মতো নির্মাণ। এলাকায় জল নিকাশির ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে যায় ওই ভবনের চারদিকে। ইতিমধ্যে ভবনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে সপরিবার পুলিশকর্মীদের থাকা যাবে না বলে রিপোর্ট জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হলদিয়া) বিবেক বর্মা বলেন, ‘‘ভবানীপুরে ওই পুলিশের ভবন অস্বাস্থ্যকর বলে জেনেছি। সম্প্রতি ওই ভবন আমরা পরিদর্শন করেছি। ব্যারাক না হলেও, জরুরি যে কোনও প্রয়োজনে ওই ভবন ব্যবহার করা হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Haldia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy