E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আর্থিক সহায়তার আশা বন্ধ পেপার মিলের শ্রমিকদের

মানিকপাড়ার বেলতলায় অবস্থিত ‘ইউনিটেক পেপার অ্যান্ড বোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। স্থানীয় ভাবে বেলতলা পেপার মিল নামে পরিচিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৬

Sourced by the ABP

তিন বছর ধরে বন্ধ ঝাড়গ্রাম গ্রামীণের বেলতলা পেপার মিল। কারখানার দরজায় তালা। বন্ধ শ্রমিকদের রোজগার। কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার দরজা খুলল এ বার। রাজ্য শ্রম দফতরের ফিনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স টু দ্য ওয়ার্কার্স ইন লকড-আউট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিটস-এর সহায়তায় (এফএডব্লিউএলওআই) শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন মিলেছে। এটি লকআউট কারাখানার শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প।

কাগজকলটির ২৮ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৬ জন প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দীপাবলির আগে তাঁরা বকেয়া সহায়তার টাকা পৌঁছতে পারে বলে শ্রম দফতর সূত্রে খবর। তবে কারখানার তালা খোলার বিষয়ে এখনও কোনও সুরাহা মেলেনি।

মানিকপাড়ার বেলতলায় অবস্থিত ‘ইউনিটেক পেপার অ্যান্ড বোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। স্থানীয় ভাবে বেলতলা পেপার মিল নামে পরিচিত। কারখানাটিতে ব্রাউন পেপার ও গ্রে বোর্ড তৈরি হত। ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর নোটিস জারি করে ১ নভেম্বর কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারখানায় শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন নেই। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পরে কারখানার শ্রমিকেরা একজোট হয়ে তাঁদের সমস্যা ও পাওনাগণ্ডা মেটানোর দাবিতে শ্রম দফতরের দ্বারস্থ হন।

সমস্যা মেটাতে শ্রম দফতরের মধ্যস্থতায় পর পর তিনটি ‘কনসিলিয়েশন’ বৈঠক ডাকা হয়। শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও কোনও বৈঠকেই মালিকপক্ষ হাজির হননি বলে দফতর সূত্রে খবর। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করে বিষয়টি কলকাতায় পাঠানো হয়। সম্প্রতি স্ক্রিনিং কমিটির অনুমোদনের পর শুরু হয়েছে ফর্ম বিলি ও নথি যাচাইয়ের কাজ। ২০২৪ সালের ১ মে থেকে শ্রমিকদের এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বলে
বিবেচনা করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের ‘এফএডব্লিউএলওআই’ প্রকল্পে যোগ্য শ্রমিকেরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং উৎসবের মরসুমে এককালীন ১,৫০০ টাকা ‘এক্সগ্রাশিয়া’ পান। অনুমোদিত সময়ের বকেয়া সহায়তা মিলিয়ে শ্রমিকেরা প্রায় ৪৮ হাজার টাকা করে পেতে পারেন বলে দফতর সূত্রে খবর।

ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক সতীশ সিং বলেন, “প্রায় তিন বছর ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়া শ্রমিকেরা এ বার আশার আলো দেখছেন। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।” তাঁর দাবি, কারখানাটি স্বাভাবিক ভাবে চালু করে শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। কোনও শ্রমিকের মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁর পরিবারের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবিও সংগঠন তুলবে।

এ দিকে, সম্প্রতি মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করলেও পুনরায় কারখানা চালুর বিষয়ে শ্রম দফতরে এখনও লিখিত প্রস্তাব জমা পড়েনি। ফলে আর্থিক সহায়তার প্রক্রিয়া এগোলেও বেলতলা পেপার মিলের তালা কবে খুলবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শ্রম দফতরের এক আধিকারিক বলছেন, “ফাওলই-তে (এফএডব্লিউএলওআই) অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকেরা আর্থিক সহায়তা পাবেন।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Jhargram

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy