দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের নদিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় শুরু হয়েছে ভিবিজি-রামজি প্রকল্পের আওতায় ১২৫ দিনের কাজ। দীর্ঘ দিন কাজ বন্ধ থাকায় গ্রামীণ এলাকায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল। ফের প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন করে কাজের আশায় অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে মাটি কাটা, পুকুর খনন-সহ একাধিক কাজ।
তবে বর্তমানে পাট চাষের মরসুম চলায় নদিয়ার একটা বড় অংশের মানুষ কৃষিকাজে ব্যস্ত রয়েছে। ফলে, অনেক শ্রমিক এখন পাট চাষ ও পাট কাটার কাজে যুক্ত রয়েছেন। যদিও প্রশাসনের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজে শ্রমিকের কোনও সমস্যা দেখা দেয়নি। পাটের মরসুম শেষ হলে আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিক এই কাজে যোগ দেবেন বলে আশাবাদী প্রশাসনের কর্তারা।
চাকদহ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও ইতিমধ্যে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হয়েছে। কোনও পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও বৃষ্টি-সহ বিভিন্ন কারণে কাজ এখনও সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। ঘেটুগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুগাছিতে পুকুর খননের কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে এ বার রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোবিন্দ ঘোষ।
অন্য দিকে, হিংনারা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরুলিয়া এলাকায় পুকুর খননের কাজ শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা শেষ করা যায়নি বলে জানান চাকদহ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা জুয়েল মল্লিক।
গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন উদ্যোগ হিসেবে কেন্দ্রের ভিবিজি-রামজি প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে কাজ করতে হলে ভোটার তালিকায় নাম থাকার পাশাপাশি বৈধ জবকার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কাজের সূচি তৈরি করার পরে নির্দিষ্ট কর্মস্থলে শ্রমিকদের হাজিরা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় চোখের রেটিনা স্ক্যানের মাধ্যমে উপস্থিতি নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এক জন শ্রমিককে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি পেতে হলে প্রায় ৬২ সিএফটি মাটি কাটতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেও নজরদারি করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি।
জেলা প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, এখনও পর্যন্ত যে কাজ হয়েছে, তার নিরিখে নদিয়া গোটা রাজ্যের প্রথম দশটি জেলার মধ্যে রয়েছে। অতীতে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কোথাও কাজ না করেও কাজ হয়েছে বলে দেখানো বা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বার শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে দাবি। এখনও পর্যন্ত ভিবিজি-রামজি প্রকল্পে কাজ না করে টাকা নেওয়া বা অন্য কোনও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসেনি বলেই জানা গিয়েছে।