বিধানসভা ভোটের পর ফলপ্রকাশের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজনীতি করবেন না। কাউন্সিলর পদ ছেড়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল করতেন বলে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে সদ্য পদত্যাগী কাউন্সিলরকে! এমনই অভিযোগ উঠল নদিয়ার নবদ্বীপে।
নবদ্বীপ পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন ঝন্টুলাল দাস। সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন তিনি। পেশায় শিক্ষাকর্মী ঝন্টুলালকে শনিবার রাস্তায় ফেলে পেটায় একদল যুবক। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার প্রতাপনগরের সুদর্শন হাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ঝন্টুলালের পথ আগলে দাঁড়ান কয়েক জন। প্রথমে প্রাক্তন কাউন্সিলরকে কাঁচা ডিম ছোড়া হয়। তিনি তার মধ্যে বাড়ির পথে পা বাড়ালে শুরু হয় মারধর। একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) রাস্তার উপর ফেলে পেটানো হচ্ছে ওই ব্যক্তিকে। তিনি ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তবু মারধর থামেনি।
শেষমেশ রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাক্তন কাউন্সিলরকে উদ্ধার কয়েক জন। তাঁকে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে ঝুন্টুলাল বলেন, ‘‘তৃণমূল করাটাই অপরাধ! আমাকে বলছে, ‘তুই তৃণমূল করেছিস। অনেক খেয়েছিস।’ কিছু বলতে যাওয়ার আগে মারধর শুরু করে দেয়।’’ তবে জখম ঝন্টুলাল জানিয়েছেন, আক্রমণকারীদের তিনি চেনেন না। তিনি এ-ও জানান, সম্প্রতি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই কাউন্সিলর পদ ছেড়েছেন। তার পরেও কেন তাঁকে ‘নিশানা’ করা হল, তা তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘এটা কোনও রাজনৈতিক ক্ষোভ বা গণরোষ নয়, এক শ্রেণির সুবিধাবাদী লোক ব্যক্তিগত ভাবে টার্গেট করে এই নোংরামো করছে। আমায় মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল।’’
আরও পড়ুন:
ঘটনার নিন্দা করেছেন নবদ্বীপের বিজেপি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী। তিনি জানান, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, স্পষ্ট হয়নি।