নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন হল মুর্শিদাবাদে। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার মিলিয়ে জেলায় প্রায় তিন হাজার প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। বাকি আরও ৬০০ প্রতিমা শনিবারের মধ্যে বিসর্জন হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দশমীর সন্ধ্যায় বহরমপুরে ভাগীরথীর বিভিন্ন ঘাটে ভিড় হয়েছিল। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বিসর্জন চলেছে। বৃহস্পতিবারও একই ভাবে প্রতিমা বিসর্জন হয়। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল ঘাটে ঘাটে।
অন্য দিকে, প্রতিমা বিসর্জনের পরে ভাগীরথীর ঘাটগুলি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বহরমপুর পুরসভা। বুধবার রাতে বিসর্জনের পরেই ভাগীরথী থেকে কাঠামো তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছিল পুরসভা। বহরমপুর শহরের কৃষ্ণনাথ কলেজ ঘাট-সহ আরও বেশ কয়েকটি ঘাটে আধুনিক উপায়ে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে বহরমপুর শহরের ঘাটগুলি পরিদর্শন করেন মহকুমাশাসক (বহরমপুর) তথা বহরমপুর পুরসভার প্রশাসক সমীরণ বারিক।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ-জেলার পুলিশ সুপার শচীন মক্কার বলেন, “বুধবার প্রায় ২২০০ প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও প্রায় ৮০০ প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে জেলায়। শনিবার পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন চলবে। প্রতিটি ঘাটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
বহরমপুরের পুর-প্রশাসক সমীরণ বারিক বলেন, “ঘাটগুলিতে যথেষ্ট আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিসর্জনের পরেই ঘাটগুলি পরিষ্কার রাখার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঠামোগুলি বুধবার রাতেই তোলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসর্জনের সময় প্রতিমার হাতে থাকা নকল অস্ত্রগুলি পুজো কমিটির লোকেরাই খুলে নিচ্ছেন।”
বহরমপুরের কিশোর সঙ্ঘ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক বাসুদেব ঘোষ বলেন, “বুধবার রাতে কৃষ্ণনাথ কলেজ ঘাটে আমরা প্রতিমা বিসর্জন করেছি। প্রতিমার হাতে থাকা নকল অস্ত্র আমরাই খুলে নিয়েছিলাম।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাধারঘাট সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক সৌমেন সাহা বলেন, “ভিড় এড়াতে আমরা বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জন করেছি রাধারঘাটে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল ছিল।”
বুধবার ব্যাপক শব্দবাজির তাণ্ডব দেখা গিয়েছে বহরমপুরে। বৃহস্পতিবারও তা কমেনি। বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ ঘাট, গোরাবাজার ঘাট-সহ একাধিক ঘাটে শব্দবাজির পোড়ানো হয়েছে বলেই খবর। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শচীন মক্কার বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি।”