E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অন্নপূর্ণার খোঁজ চাইতেই গরম চা ঢালার হুমকি

বুধবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেল না পুর কর্তৃপক্ষকে। তবে শহরে যে সমস্ত মহিলা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পাননি তাঁদের নথি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশেষ দল গঠন করেছে কৃষ্ণনগর পুরসভা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৮:১০

—প্রতীকী চিত্র।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফর্ম জমা দিয়েও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। তার কারণ জানতে কৃষ্ণনগর পুরসভায় গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মহিলা। কিন্তু প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়ার পরিবর্তে সেই তাঁদের গায়ে গরম চা ঢেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার কর্মীর বিরুদ্ধে। এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই মহিলারা।

শুধু সমাজমাধ্য়ম নয়। এই অভিযোগ নিয়ে আবেদনকারীরা পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকের সামনে সরব হন। পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে আসা বিধায়ককেও বিষয়টি জানানো হয়। ওই ঘটনার পর, বুধবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেল না পুর কর্তৃপক্ষকে। তবে শহরে যে সমস্ত মহিলা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পাননি তাঁদের নথি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশেষ দল গঠন করেছে কৃষ্ণনগর পুরসভা। এ দিন থেকেই পুরকর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে সেই কাজ শুরু করেছেন।

প্রশাসন সূত্রের খবর, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ১৩ লক্ষ ৩৫ হাজার উপভোক্তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক,ছয় লক্ষ ৮০ হাজার ১৭২ জনের নাম আছে অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায়। তবে তাঁদের একটা বড় অংশই এখনও টাকা পাননি। আবার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকের নাম তালিকায় না থাকার অভিযোগ উঠছে। মঙ্গলবার বেশ কিছু মহিলা কৃষ্ণনগর পুরসভায় গিয়ে এমনই সব অভিযোগ তুলে সরব হন। সেই সময়েই এক পুরকর্মী তাঁদের ঘর থেকে বেরিয়ে না গেলে গায়ে গরম চা ঢেলে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

এ দিন কৃষ্ণনগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিলি দাস বলেন, “আমরা একটাও মিথ্যা তথ্য দিইনি। তার পরেও আমাদের নাম কেন বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে, কী করলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাব তা জানতেই আমরা কয়েক জন পুরসভায় গিয়েছিলাম।” তাঁর অভিযোগ, “সেই সময় নীল গেঞ্জি পরা এক পুরকর্মী আমাদের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। শুধু তা-ই নয়, আমরা বেরিয়ে না গেলে তাঁর হাতে ধরা পেয়ালার গরম চা আমাদের গায়ে ঢেলে দেবেন বলেও হুমকি দেন।”

এর পরেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন ওই মহিলারা। তাঁরা পুরসভার নির্বাহী আধিকারিককে বিষয়টি জানান। পুরসভায় বৈঠক করতে এলে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়কেও বিষয়টি জানানো হয়। তার পরও অবশ্য কারও কোনও হেলদোল নেই। নির্বাহী আধিকারিক ওয়াইদ আনোয়ার খানকে একাধিক নবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। বিধায়ক বলেন, “অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। যদিও এখনও কেউ লিখিত ভাবে অভিযোগ জানাননি। তবে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।” অনেকে নথি জমা করলেও পুরকর্মীরা তা পোর্টালে তোলেননি বলেও তিনি আক্ষেপ করেছেন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Annapurna Bhandar Scheme threat

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy