সরকারি জমি জবরদখল করে পতাকা লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার নদিয়ার তাহেরপুরে। বাধা দিতে যাওয়ায় পুরসভার সিপিএম চেয়ারম্যান এবং একাধিক মহিলা কাউন্সিলরকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কয়েক জন বিজেপি কর্মীর। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শাসকদলের পাল্টা দাবি, নিয়ম মেনেই পিডব্লিউডি-র অনুমতি সাপেক্ষে ওই জমিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইয়ের স্টল করা হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাহেরপুর থানা এলাকার ঠিক পাশেই রাস্তার ধারে একটি সরকারি জমি রয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রাতে আচমকাই সেই জমি দখল করে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। যেহেতু জমিটি তাহেরপুর পুরসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত, তাই খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুরসভার চেয়ারম্যান ও বেশ কয়েকজন মহিলা কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে যান। পুর প্রধান ও কাউন্সিলরেরা প্রশ্ন তোলেন, “পুরসভার অনুমতি ছাড়া কী করে সরকারি জমিতে এই ধরনের জবরদখল চালানো হচ্ছে?”
সিপিএমের দাবি, রাজ্যে একমাত্র তাহেরপুর পুরসভাটিই তাদের দখলে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং গায়ের জোর দেখাতেই বিজেপি এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ তাদের। অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং মহিলা কাউন্সিলরদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। এই ঘটনার পরেই তাহেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পুরকর্তৃপক্ষ।
অন্য দিকে, সিপিএমের তোলা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, গোটা দেশ জুড়ে সিপিএম বই বিক্রির আড়ালে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করছে। সেই চক্রান্ত রুখতেই তারা ওই জমিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইয়ের একটি স্টল করার উদ্যোগ নিয়েছিল। জমি দখলের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির আরও দাবি, জায়গাটি পুরসভার নয়, বরং পিডব্লিউডি-র। সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি নিয়েই সেখানে কাজ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছে তারা।
ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে তাহেরপুর থানার পুলিশ।