করিমপুর-কৃষ্ণনগরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পাকা সড়কে কম করে ৫৫টি হ্যাম্প রয়েছে। অভিযোগ, যে কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
প্রসঙ্গত, এই রাস্তাটি আগে ১১ নম্বর রাজ্য সড়ক ছিল। জুন মাসে রাজ্য সরকার এই সড়কটি চার লেনে রূপান্তর করতে কেন্দ্রীয় জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থাকে চিঠি দিয়ে হস্তান্তর করেছে। এখন এটি ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। জানা গিয়েছে, প্রথম দিকে পথ দুর্ঘটনা কমাতে ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে করিমপুর-কৃষ্ণনগর পাকা সড়কের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় হ্যাম্প করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে রাস্তা সংস্কারের সময়ে কিংবা কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভে একাধিক হ্যাম্প গড়ে উঠেছে।পরিবহণ কর্মী তপন প্রামাণিকের দাবি, দূর থেকে এগুলি দেখা যায় না। এতগুলি হ্যাম্পের একটিতেও সাদা দাগ নেই বলে অভিযোগ।
করিমপুরের উত্তরণ বিশ্বাস দাবি করেন, কেন্দ্র সরকারের ‘ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস’ সংস্থা এবং উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুমদাম করে সড়কের কোথাও হ্যাম্প তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কোথাও এমন হয়ে থাকে তা হলে সেগুলিকে তুলে ফেলতে হবে। তাঁর আরও দাবি, জনস্বার্থে বিশেষ প্রয়োজনে কোথাও হ্যাম্প করতে গেলে পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফের লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেটাও নিয়মের মধ্যে করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী একটি আদর্শ বাম্পারের উচ্চতা হতে হবে সর্বোচ্চ ১০ সেন্টিমিটার (০.১ মিটার) এবং প্রস্থ হতে হবে ৩.৭ মিটার। কিন্তু একাধিক জায়গায় হ্যাম্পগুলির উচ্চতা অনেক বেশি বলে অভিযোগ।
এক অ্যাম্বুল্যান্স চালক ছোটন শীল বলেন, ‘‘যখন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে করিমপুর থেকে জেলা কিংবা অন্য হাসপাতালগুলিতে গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময়ে হ্যাম্পগুলির উপরে উঠলে মনে হয় প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে শেষমেষ দুর্ঘটনা ঘটে যাবে না তো?’’
তেহট্ট মহকুমা আদালতের বর্তমান অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী জগন্নাথ ঘোষ বলেন, ‘‘আমি বছরপাঁচেক আগে এই হ্যাম্প তুলতে উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলাম। আদালত প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিষয়টি জানিয়েছি। পদক্ষেপের আশ্বাস পেয়েছি।’’
কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সড়ক সংস্কার ও অন্য সমস্যা দূর করতে প্রায় ছয় কোটি টাকার দরপত্র ডাকা হয়েছে। প্রত্যেকটি এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। করিমপুরের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, ‘‘অবৈধ হ্যাম্প তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাব।’’