শীতের পরেই বাজার সস্তা হওয়ার কথা বর্ষায়। কিন্তু ভরা শ্রাবণে বাজারের ছবিটা একেবারেই উল্টো। আনাজ, ডিম থেকে মাছ-মাংস সব কিছুর দাম লাগামছাড়া। মধ্যবিত্তের কাছে সীমিত অর্থের মধ্যে গুছিয়ে বাজার করে হেঁশেল সামলানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক সপ্তাহে হু হু করে বেড়েছে আদা, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি আনাজের দাম। অন্য দিকে, কাকতালীয় হলেও ভোটে পালাবদলের পর থেকে ডিমের ‘রাজনৈতিক’ গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আকাশছোঁয়া হয়েছে দাম!
সাধারণত বাজারে এখন তিন রকম ডিম বিক্রি হয়। দেশি হাঁসের ডিম, পোলট্রির সাদা কুসুমযুক্ত ও লাল কুসুমযুক্ত ডিম। শুক্রবার নবদ্বীপের বিভিন্ন বাজারে প্রতিটি দেশি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকায়। লাল কুসুমযুক্ত ডিম সাড়ে ৮ টাকা এবং সাদা কুসুমের ৭ টাকা প্রতিটি। গত সপ্তাহ পর্যন্ত লাল কুসুমের ডিমের দাম ছিল প্রতিটি সাড়ে ৯ টাকা। সব ধরনের খাবারে ডিমের বহুল ব্যবহারে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাড়ে ৬ টাকার ডিম হঠাৎ এমন মহার্ঘ হয়ে ওঠায়। খুচরো বিক্রেতা অনুপ দাসের কথায়, “ডিমের দাম এ ভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমে গিয়েছে।” যদিও ভিন্ রাজ্যের সঙ্গে ডিমের পাইকারি কারবারে যুক্ত স্বপন কর্মকার বলেন, “ডিমের দামের এই ওঠানামা আপাতত চলতেই থাকবে।”
নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে মরসুমি আনাজও। একমাত্র আলু ছাড়া যাবতীয় আনাজের দর বেড়েই চলেছে। আলু ব্যবসায়ী বাপন দাস বলেন, “এক মাসের মধ্যে দ্রুত বেড়েছে আদা-পেঁয়াজের দাম। ৮০-১০০ টাকার আদা আজ বিক্রি করেছি ২৫০ টাকায়। ১৫-২০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৪০ টাকা। যা খবর পাচ্ছি, দাম আরও চড়তে পারে।” সপ্তাহান্তের বাজারে কেজি প্রতি পটল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, কাঁচা লঙ্কা ১৫০ টাকা। মিষ্টি কুমড়ো, লাউ, চালকুমড়ো, ঢেঁড়স-জাতীয় আনাজের দাম ৪০ টাকার আশপাশে। টোম্যাটো ৬০ টাকা কেজি।
চাষিরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে বৃষ্টির কারণে আনাজের ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পাইকারি বাজারে কম জোগানের কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, নজরদারির অভাবে বাজারে দাম ইচ্ছা মতো চড়ছে। তবে কলকাতার মতো বড় শহরে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ‘টাস্ক ফোর্স’ নামলেও জেলায় এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। সব মিলিয়ে বর্ষায় বাজার নিয়ে বেজার বাঙালি।