চিনি, চাল, পিঁয়াজের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের লাগাম ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কিছুটা বাড়ল। এ দিন সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির তরফে যে সংশোধিত মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে এলাকাভেদে প্রতি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯.৫০ টাকা থেকে ১১.৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহস্থের ব্যবহারের গ্যাসের দামে কোনও হেরফের হয়নি। কিন্তু উৎসব মরসুমের গোড়ায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সকলেই।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সিলিন্ডার পিছু নয়-দশ টাকা সেই অর্থে বিরাট বৃদ্ধি নয়। কিন্তু বিন্দু থেকেই সিন্ধু। কেননা বাজারে চিনি, বাসমতী চাল, ময়দা, ডালডা, দুধ থেকে শুরু করে পিঁয়াজ, রসুন, আদা সব কিছুর দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা, দাম এক বার বৃদ্ধি পেলে তা সহজে হ্রাস পায় না। পেলেও আগের দামে সচরাচর ফেরে না। মিষ্টি বা ফাস্টফুড বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, কাঁচামালের সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তাঁদেরও খাবারের দামও বাড়াতে হবে। ফলে, ঘুরে-ফিরে চাপ পড়বে সেই আমজনতার পকেটে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই বেড়ে চলেছে গ্যাসের দাম। মঙ্গলবার থেকে ফের দাম বেড়ে নদিয়ায় হল ২৯০৭ টাকা। যার জের ছোট-বড় হোটেল, রেস্তরাঁ, কেটারিং এবং মিষ্টান্ন ব্যবসায় পড়তে চলেছে। নবদ্বীপের এক রেস্তরাঁ মালিক শ্যামল মল্লিক বলেন “বিন্দু বিন্দু করে সব কিছুর দাম বেড়েই তো আমাদের অবস্থা খারাপ করে দিচ্ছে।”
সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির জের পড়তে চলছে সব খাবারেই। শ্যামল বলেন “সামনে পুজোর মরসুম। বিরিয়ানির দাম অন্তত ২০ টাকা না বাড়ালে আমরা মারা পড়ব।” পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক তাপস দাস বলেন, “মিষ্টি তৈরিতে জ্বালানি মুখ্য। পুজোর মরসুমে মিষ্টির দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।”