ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) ‘বিশেষ অভিযান’-এর ক্ষেত্রে এখনও কিছু ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। এই অভিযানে নতুন ভোটারদের (১৮-১৯ বছর) বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিএলওদের নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্দেশিকা আজও কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে বিশেষ তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
আবার নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বাবা-মায়ের নাম যদি বিবেচনাধীন থাকে, তা হলে তাঁর নাম তোলার আবেদন গ্রহণ করা যাবে না বা তিনি ফর্ম-৬ পূরণ করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, বাবা-মায়ের দু’জনের মধ্যে যদি এক জনের নাম ভোটার তালিকায় থাকে বা বিবেচনাধীন তালিকায় না থাকে, সে ক্ষেত্রে কী হবে? জেলার এক কর্তার কথায়, “কয়েকটি বিষয় আমাদের কাছেও এখনও পরিষ্কার নয়। ইআরও-দের প্রশিক্ষণে হয়তো জানা যাবে।” আজ, বৃহস্পতিবারই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) প্রশিক্ষণ নিতেডাকা হয়েছে।
নদিয়ায় এসআইআর-এ মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ও ডুপ্লিকেট ভোটার হিসাবে প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। আর খসড়া তালিকা থেকে অযোগ্য ভোটার হিসাবে বাদ গিয়েছে প্রায় ৬২ হাজার। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার জনের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার জন আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, ট্রাইবুনালে আবেদন করুন বা না করুন, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা কেউ নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ পূরণ করতে পারবেন না। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, “এটা বিচারবিভাগীয় বিষয়। তাই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আবেদন করা যাবে না। কেউ করলেও, আমরা সেই আবেদন গ্রহণ করতে পারব না।” তেমন আবেদন নির্বাচন কমিশনের পোর্টালেই বাতিল হয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে।
এর অর্থ হল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ৮ লক্ষ ৮৬ হাজারের মধ্যে বিবেচনাধীন ২ লক্ষ ৮ হাজার জন আবেদন করতে পারবেন না। এক ইআরও-এর কথায়, “আমরা নানা কারণে নাম বাদ দিয়েছিলাম। অনেকেই সেই সময় নথি দেখাতে পারেননি। তাঁরা পরবর্তী কালে সেই নথি জোগাড় করতেই পারেন। অনেকেই আবার সিএএ-র শংসাপত্র হাতে পেয়ে গিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তো আবেদন করতেই পারেন।” তাঁর ব্য়াখ্যা, “কোনও কারণে কেউ হয়তো প্রথম বার নথি জোগাড় করতে পারেননি, পরে জোগাড় করে ফেলেছেন। দ্বিতীয় বার তাঁরা যদি নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নথি দেখাতে পারেন বা শর্ত পূরণ করতে পারেন, তা হলে আবার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম তোলায় কোনও বাধা থাকার কথা নয়।”