কমানো হল কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তা। এত দিন ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। এ বার থেকে তিনি ‘এক্স’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেন।
বছর তিনেক আগে অধীরের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার দু’মাস পেরোতেই অধীরের নিরাপত্তা হ্রাসে রাজনীতি দেখছেন ঘনিষ্ঠেরা। যদিও প্রশাসন এবং রাজনীতিকদের একাংশের ব্যাখ্যা, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, অধীর এখন সাংসদ বা বিধায়ক নন। কংগ্রেসেও বড় কোনও পদে নেই। তিনি কেবল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তকে ‘বিতর্কিত’ বলতে নারাজ তাঁরা। আর অধীর নিজে বলছেন, তিনি নিরাপত্তা নিয়েই মাথা-ই ঘামান না। কোন ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেলেন না পেলেন না, তা নিয়ে ভাবেন না।
অধীর সাংসদ থাকাকালীন ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ জওয়ান থাকতেন। ২০২৩ সালের মে মাসে অধীরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক। মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে অধীরের সঙ্গে বিজেপির ‘সেটিং’ আছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেছিলেন, ‘‘দিদির পুলিশের উপর ভরসা না করে অধীর দাদার পুলিশে আস্থা রাখেন। আর এই দাদা হলেন স্বয়ং অমিত শাহ।’’ পাল্টা অধীর বলেছিলেন, ‘‘খোকাবাবু বা তাঁর পিসিকে আমন্ত্রণ করছি তাঁরা বহরমপুরে লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করুন। যদি আমি হেরে যাই তা হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলে ‘তারকা’ প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে লাখের বেশি ভোটে হারেন অধীর। তবে প্রাক্তন সাংসদ হওয়ার পরেও তাঁর নিরাপত্তার বহর কমেনি। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার দু’মাস পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কমল অধীরের। শুক্রবার এই সংবাদ যখন পাওয়া যায়, কাকতালীয় ভাবে তখন মুর্শিদাবাদ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অধীরের কথায়, ‘‘প্রয়োজন হয়েছে কমিয়ে দিয়েছে। কী ক্যাটেগরি আমি জানি না... নিরাপত্তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নিরাপত্তার কথা বললে, এখনও সেই নিরাপত্তা আছে। তবে আমি নিরাপত্তা চেয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য কারও কাছে দরখাস্ত করিনি।’’