মাথা ঘুরছে। গা গুলোচ্ছে। বমি-বমি ভাব। ঘনঘন গলা শুকিয়ে আসছে। গার্লস হস্টেলের প্রায় সমস্ত আবাসিকের এই এক সমস্যা। সোমবার ওই নিয়ে শোরগোল মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় তফসিল গার্লস হস্টেলে।
গার্লস হস্টেলের অন্তত ৪৪ জন আবাসিক-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কয়েক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ছাত্রী এবং অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে হস্টেলের এক পাচককে আটক করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
আবাসিকদের অভিযোগ, সমস্যার শুরু হয় শনিবার রাতে। নৈশভোজের পর তাঁরা এক এক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে খাবারে বিষক্রিয়া থেকে এমনটা হচ্ছে বলে ভেবেছিলেন সকলে। হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা অসুস্থ হয়ে পড়া ছাত্রীদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরেই বেশ কয়েক জন ছাত্রী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতের খাবারে মাদক জাতীয় কিছু মেশানো হয়েছিল। সকলের গা ঝিমঝিম করা, গলা শুকিয়ে আসার মতো সমস্যা সে জন্যই। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হস্টেলের রান্নাঘরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে এসেছে (ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তাতে অভিযুক্ত রাঁধুনিকে কড়াইয়ে কিছু মেশাতে দেখা যাচ্ছে। ছাত্রীদের দাবি, পনিরের তরকারি বানানোর সময় মাদক মিশিয়েছেন রাঁধুনি। দু’জন ছাত্রী ওই পদ খাননি। তাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা হয়নি।
একের পর এক ছাত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে অভিভাবকেরা উপস্থিত হন হস্টেলে। রুমা হালদার নামে এক অভিভাবিকা বলেন, ‘‘মেয়ে অঙ্ক নিয়ে পড়াশোনা করছে। প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এক সপ্তাহ হল এই হস্টেলে থাকছে। ১০ অক্টোবর রাত থেকে ও অসুস্থ। এখন হাসপাতালে আছে। কী থেকে কী হল জানি না। টেনশন তো হবেই।’’ বিমলকুমার মণ্ডল নামে আর এক অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়ে পিয়ালি মণ্ডল অসুস্থ। মেয়ে ফোন করে জানান, সবসময় মাথা ঘুরছে। বমি বমি ভাব। বিমল বলেন, ‘‘খাবারে মাদক মিশিয়েছে বলে সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে। তার তদন্ত হোক।’’
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হস্টেলের কয়েক জন ছাত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত রাঁধুনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার পর হস্টেল কর্তৃপক্ষের তরফে কেন পুলিশে খবর দেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা আগে ছাত্রীদের সুস্থতার দিকে নজর দিয়েছেন। এক এক করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছিল। পুলিশে জানানোর সময় পাননি। তবে হস্টেলের তরফেও অভিযোগের সত্যাসত্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।