Advertisement
E-Paper

বাড়ছে পিতলের লক্ষ্মী মূর্তির চাহিদা! সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মাটি, শোলা ও বাঁশের প্রতিমা শিল্পীরা

কাঁসা-পিতলের মূর্তির বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, পিতলের লক্ষ্মী মূর্তির ওজন ১০০ গ্রাম থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সহজলভ্য। এর থেকে ছোট বা বড় নিতে গেলে আলাদা করে অর্ডার দিতে হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০৬
কৃষ্ণনগরের দোকানে লক্ষ্মী মূর্তি।

কৃষ্ণনগরের দোকানে লক্ষ্মী মূর্তি। — নিজস্ব চিত্র।

দাম হয়তো একটু বেশি পড়ে। কিন্তু সেটা এক বারই। প্রতি বছর পুজোর আগে কিনতে হয় না। রক্ষণাবেক্ষণেরও সমস্যা হয় না। সে কারণেই পিতলের প্রতিমার চাহিদা বাড়ছে। আর তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মাটি, শোলার প্রতিমা শিল্পীরা।

কৃষ্ণনগরের নতুন বাজারে রয়েছে একাধিক পিতল-কাঁসার দোকান। গত দু’মাসে সেখানে পিতলের বিগ্রহের চাহিদা ছিল খুব বেশি। বিশেষত লক্ষ্মী প্রতিমার। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সময়মতো যাতে ঘরে নিয়ে যেতে পারেন, তাই অনেকেই দুর্গাপুজোর কেনাকাটা করতে গিয়ে লক্ষ্মীর মূর্তি কিনে শিল্পীদের কাছে অঙ্গরাগ করতে দিয়ে গিয়েছেন। কেউ আবার তখনই সরাসরি কিনে নিয়ে গিয়েছেন বাড়িতে।

কাঁসা-পিতলের মূর্তির বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, পিতলের লক্ষ্মী মূর্তির ওজন ১০০ গ্রাম থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সহজলভ্য। এর থেকে ছোট বা বড় নিতে গেলে আলাদা করে অর্ডার দিতে হয়। মূর্তির কারুকাজ যত নিখুঁত হয়, ততই দাম বাড়ে।

কৃষ্ণনগরের পাত্রবাজারের বাসিন্দা প্রমিলা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মাটির মূর্তি নিয়ে আসা এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ বেশ ঝুঁকির। কারণ, এক বছর সেই প্রতিমার নিরঞ্জন হয় না। সে দিক থেকে ধাতব মূর্তি ঘরে রাখা সুবিধাজনক। তাই এ বছর মাটির প্রতিমার বদলে পিতলের লক্ষ্মী মূর্তি নিচ্ছি।’’

কৃষ্ণনগরের সুবর্ণবিহারের ধাতব মূর্তির অঙ্গরাগ শিল্পী সুমন দাস বলেন, ‘‘এ বছর লক্ষ্মী মূর্তির অঙ্গরাগের কাজ বেড়েছে। বিজয়া দশমীর পর থেকে বরাত নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। যেগুলি রয়েছে, সেগুলি সময়মতো গৃহস্থের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।’’

তবে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মাটি, শোলা ও বাঁশের প্রতিমা শিল্পীরা। লক্ষ্মীপূজার সময় শোলা দিয়ে তৈরি দেবীমূর্তি পূজার রীতি অতি প্রাচীন। তা ছাড়া মাটির সরা এবং প্রতিমাও ঘরে ঘরে পূজিত হয়। পিতলের লক্ষ্মী মূর্তির প্রতি গৃহস্থের ঝোঁক বাড়ায় চাহিদা কমেছে মাটির মূর্তির। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির পুতুলপট্টির মৃৎশিল্পী শম্ভু পাল জানাচ্ছেন, ‘‘বছরের এই সময় ছোট লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করে শেষ করতে পারি না। যাঁরা অস্থায়ী দোকান তৈরি করে বিক্রি করেন, তাঁদের কাছ থেকে অর্ডার আসে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দশকর্মা দোকান থেকেও ছোট লক্ষ্মী মূর্তির অর্ডার আসে। কিন্তু এবার ছোট মূর্তির জায়গা দখল করে নিয়েছে পিতলের মূর্তি। যেগুলি তৈরি করেছি, সেগুলি বিক্রি হওয়া নিয়েই এখন চিন্তা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ভাবে পিতলের মূর্তি গৃহস্থের বাড়িতে জায়গা করে নিলে আগামী দিনে লক্ষ্মীপূজার সময় কর্মহীন হয়ে পড়তে হবে পুতুলপট্টিকে।’’

ছোট মাটির মূর্তি কেনার বদলে অনেক গৃহস্থই পিতলের মূর্তি কিনছেন। তবে বড় মূর্তির ক্ষেত্রে কোনও বিকল্প আসেনি। ছোট মূর্তির বাজার কমে যাওয়ার ক্ষতি বড় মূর্তি পুষিয়ে দেবে বলে আশাবাদী অনেক শিল্পী।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy