বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে বিধায়ককে কলকাতার কোনও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবর। বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছে দমকলবাহিনী এবং পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল ১০টার কিছু পরে বাইরনের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের বাড়িতে আগুন লাগে। ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন বিধায়ক। তিনি দগ্ধ হন। ব্যবসায়ী তথা বিধায়ক বাইরনকে তাঁর তৈরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার জন্য সোজাসুজি কলকাতার কোনও হাসপাতালে নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানিয়েছে আর একটি সূত্র। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের সুপার অনিন্দ্য গোস্বামী বলেন, ‘‘বেলা ১২টা নাগাদ বাইরন বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তাঁকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেইমতো আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বার্নিং ট্রিটমেন্টের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু উনি এখনও এসে পৌঁছোননি। ওঁকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নেই।’’
বিধায়কের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে
সাগরদিঘি এবং ধুলিয়ান এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধায়কের বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও
স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাইরনের জখম হওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েছিলেন বাইরন। সে বার তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২২,৯৮০ ভোটে হারিয়ে প্রথম বার বিধায়ক হন। তবে ফলপ্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তৃণমূলে চলে যান। তখন বিধানসভার নথিতে বাইরন ছিলেন কংগ্রেসেরই বিধায়ক।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাইরনকে টিকিট দেয় তৃণমূল। কিন্তু প্রথম দফা ভোটের আগে আগে বাইরন জানান, তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। এ-ও বলেন, অধীর চৌধুরী তাঁর ‘গুরুদেব’। আবার এমনও বলেন যে, তিনি সাগরদিঘিতে তিনি হারছেন। আশপাশের আরও কয়েকটি আসনের তৃণমূল প্রার্থীরাও পরাজিত হবেন। পরে আবার সেই বক্তব্য নিজেই খণ্ডন করেন। কিন্তু ধুলিয়ানের বুথে নিজের ভোটটাই দিতে পারেননি বাইরন। অভিযোগ, তিনি ভোট দিতে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা বাধা দেন। শেষমেশ অবশ্য সাগরদিঘির বিজেপি প্রার্থীকে প্রায় ৩৪ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে তৃণমূল প্রার্থী বাইরন জেতেন। তবে জয়ের পরে তিনি কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন। যোগ দেন ঋতব্রত তৃণমূলের শিবিরে। নানা সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা যায় বিরোধী ওই বিধায়ককে।