বাঁশি প্রতীক নিয়ে দু’-দুটো বিধানসভা কেন্দ্র জিতেছিলেন। রেজিনগরেই তাঁর জয়ের ব্যবধান ৫৮ হাজারের বেশি। কিন্তু উপনির্বাচনের দু’সপ্তাহ আগে হঠাৎ হুমায়ুন কবীরের ঘোষণা, আর ভোটপ্রচার করবেন না! তাঁর পুত্র তথা রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজ়াদকেও ভোটপ্রচারের বেরোতে বারণ করে দিলেন হুমায়ুন। কারণ, পুলিশ!
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে হুমায়ুনের দলের চিহ্ন বাঁশি থেকে বদলে হয়েছে টেবিল। অন্য দিকে, উপনির্বাচনের মুখে তাঁর দলের একাধিক নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতার। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মঞ্জুর রহমান ওরফে লেবু, হক মল্লিক এবং আব্দুল আলিম। শক্তিপুরের মিঞাগ্রাম থেকে গ্রেফতার হয়েছেন মহম্মদ নাসিম শেখ। নাসিম হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বাকিরা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জড়িত। মঞ্জুর রহমানের স্ত্রী বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। হক মল্লিক আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিনগর ব্লক সহ-সভাপতি এবং ছ’টি অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন। আব্দুল দাদপুর অঞ্চলের সভাপতি।
এই প্রেক্ষিতে রবিবার হুমায়ুনের ঘোষণা, আর ভোটপ্রচারে বেরোবেন না তিনি। নওদার বিধায়কের কথায়, ‘‘প্রাথমিক ভাবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, একাই রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে আসব। পরে আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলেছি। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে উপনির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজ়াদও ভোট প্রচারের ময়দানে নামবে না। আমাদের দলের আর প্রচারের দরকার নেই। মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তা-ই মেনে নেব।’’
হুমায়ুন জানিয়েছেন, আর রাস্তায় বেরিয়ে প্রচার করবেন না। রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রার্থীর হয়ে প্রচার এখন থেকে সমাজমাধ্যমে করবেন। তিনি বলেন, ‘‘সমাজমাধ্যম পাতা ব্যবহার করে মানুষকে বোঝাব, দলের বক্তব্য রাখব। টেবিল চিহ্নে আমার পুত্র তথা দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন রাখব। ভোটের ময়দানে নেমে প্রচার না করলেও টেবিল চিহ্ন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ছাপিয়ে পৌঁছে দেব। তার পর মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবে, মেনে নেব।’’
তাঁর দলের একের পর এক নেতা-কর্মীর গ্রেফতারি নিয়ে বিজেপি এবং পুলিশকে দুষেছেন হুমায়ুন। নাসিমের গ্রেফতারি নিয়ে বলেন, ‘‘উনি আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। প্রাক্তন সেনাকর্মী। এখন ব্যবসা করেন। ওঁকেও ফাঁসানো হচ্ছে।” অন্য দিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, শক্তিপুরে পুলিশকে হুমকি এবং ঘৃণাভাষণের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সভার অর্থ জুগিয়েছিলেন নাসিম। হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে না। তিনি বলেন, ‘‘এককথায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা আর মাঠে-ময়দানে নেমে প্রচার করব না। আমাদের সমাজমাধ্যমের পাতা থেকে আগামী কয়েক দিন দলীয় প্রচার চালানো হবে।’’ তিনি জানান, দলের কর্মীদের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কিন্তু ভোট তো ৬ অক্টোবর। এখন থেকেই ময়দানে প্রচারে না? হুমায়ুনের জবাব, ‘‘যেখানেই কর্মীদের নিয়ে প্রচারে যাচ্ছি, সেখানেই পরের দিন তাঁদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। ক্ষমতার যে ভাবে অপব্যবহার হচ্ছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’