Advertisement
E-Paper

অডিয়ো-বিতর্ক: বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন, দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ নওদার বিধায়ক

সোমবার সকাল ১১টায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় যান হুমায়ুন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আগে নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৪
Humayun Kabir appeared at Berhampore Police Station in connection with the audio controversy

পুলিশি নোটিস হাতে বহরমপুর থানায় হুমায়ুন কবীর। —নিজস্ব ছবি।

অডিয়ো-বিতর্কে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বহরমপুর থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। সেই নির্দেশমতো সোমবার সকাল ১১টার আগেই থানায় পৌঁছে যান তিনি। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। শুধু তা-ই নয়, গ্রেফতারির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি একের পর এক দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন নওদার বিধায়ক।

সোমবার সকাল ১১টায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় যান হুমায়ুন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আগে নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। টেনে আনেন পুরনো এক প্রসঙ্গও। তাঁর বেয়াইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন। সেই ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন তিন জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ‘‘আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল ওই অফিসারদের। এখন তাঁরাই আমাকে তলব করেছে।’’ শাসকদলকে ‘তুষ্ট’ করে চলার অভিযোগও ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে তুলেছেন হুমায়ুন। একই সঙ্গে তাঁর দলের একের পর এক নেতা-কর্মীর গ্রেফতারি নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, ‘‘প্রশাসন নির্বিচারে আমার লোকদের গ্রেফতার করছে। তারা ইচ্ছে করলে আমাকেও গ্রেফতার করতে পারে।’’

সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে হুমায়ুনের কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওই অডিয়ো (যদিও সেই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। অভিযোগ, ফোনে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন হুমায়ুন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে শনিবার বিকেলে হুমায়ুনের বাড়ি যায় বহরমপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২৯৯,১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬ (২), ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

উপনির্বাচনের মুখে তাঁর দলের কয়েক জন নেতাকে পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ এজেইউপি প্রতিষ্ঠাতার। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মঞ্জুর রহমান ওরফে লেবু, হক মল্লিক এবং আব্দুল আলিম। শক্তিপুরের মিঞাগ্রাম থেকে গ্রেফতার হয়েছেন মহম্মদ নাসিম শেখ। নাসিম হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বাকিরা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জড়িত। মঞ্জুর রহমানের স্ত্রী বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। হক মল্লিক আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিনগর ব্লক সহ-সভাপতি এবং ছ’টি অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন। আব্দুল দাদপুর অঞ্চলের সভাপতি। সোমবারও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্য় দিকে, দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে কমিশনকে চিঠি লিখেছেন হুমায়ুন। কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে হুমায়ুন উল্লেখ করেন, বহরমপুর পুলিশ জেলার সুপার নিরপেক্ষতা হারিয়ে সরাসরি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এজেইউপি-র প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই বিভিন্ন থানার আইসি ও ওসি-রা যৌথ ভাবে ছক কষে তাঁর দলটির রাজ্য এবং ব্লক স্তরের প্রথম সারির নেতা-কর্মীদের পুরনো এবং মিথ্যে মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ নওদার বিধায়কের।

Humayun Kabir

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy