E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

জেবেরকে ইন্ধন, দ্বন্দ্ব বিজেপিতে

গত বিধানসভা নির্বাচনে চাপড়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন বর্তমান জেলা কমিটির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার ওরফে রাকা।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০১
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নদিয়া উত্তর জেলা বিজেপির অন্দরের ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। একদা ঘনিষ্ঠ দুই ক্ষমতাশালী জেলা পদাধিকারী এখন কার্যত সম্মুখ সমরে। দলের নেতারাই একে অপরের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনছেন। সমাজমাধ্যমেও নাম না করে পরস্পরের বিরুদ্ধে চলছে কামান দাগা। সম্প্রতি চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্র ও বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক জেবের শেখকে ঘিরে সেই কোন্দল চরম আকার নিয়েছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে চাপড়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন বর্তমান জেলা কমিটির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার ওরফে রাকা। প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু প্রভাবিত এই কেন্দ্রে তিনি পরাজিত হন। এ দিকে ভোটে জিতে ঋতব্রত-শিবিরে ভিড়ে যান একদা মহুয়া মৈত্রের ঘনিষ্ঠ জেবের। তৃণমূলের একটা বড় অংশই তাঁর সঙ্গে নেই। তবে সৈকত গোষ্ঠীর দাবি, বিজেপির উত্তর জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসের মদতে জেবের ফের পায়ের তলায় মাটি পেতে শুরু করেছেন।

সৈকত তাঁর ফেসবুক পোস্টে কারও নাম না করে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “জেবের শেখের দালালি করার জন্য কোন কোন নেতা কত টাকা ডিল করেছে জানা দরকার।... যে বিজেপি কর্মীদের দিনের পর দিন অত্যাচার করে গিয়েছে, সেই জেবের শেখকে টাকার মাধ্যমে হাওয়া বাতাস দিয়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে নিজেদের স্বার্থে।” সৈকত আরও লেখেন, “শুনলাম, বিজেপির এক নেতা হৃদয়পুরে জমি কিনছে, সেটা কী জেবের শেখের টাকায় কেনা হচ্ছে? সোনা পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভালই চলছে কামানো।”

বিজেপির একাংশের দাবি, দলের বিপুল সাফল্যের মধ্যেও জেবেরের হারার জ্বালা সৈকত এখনও হজম করতে পারেননি। তা ছাড়া, জেবের-বিরোধী এক তৃণমূল নেতা বিধানসভা ভোটে সৈকতের হয়ে কাজ করেছিলেন। রাজ্য়ে পালাবদলের পর তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। বৃহস্পতিবার সৈকত বলেন, “আমি জানতে চাই, কেন জেবেরকে তোল্লা দেওয়া হচ্ছে? এত দিন যে আমাদের কর্মীদের ঘরছাড়া করেছে তার জন্য ওই নেতার কিসের এত দরদ? কিসের বিনিময়ে জেবেরের কাছে দলটাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে?”

অর্জুনের পাল্টা বক্তব্য, “চাপড়ায় কিছু ঘটে থাকলে সেটা উনিই (সৈকত) ভাল বলতে পারবেন। কারণ প্রার্থী হওয়ায় অনেক আগে থেকেই উনি চাপড়ার ইনচার্জ ছিলেন।” তাঁর মতে, “চাপড়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েত দিয়ে শুরুটা তো উনিই করেছেন। হিন্দুদের যারা অত্যাচার করেছে, উনিই তো তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। সেটা কোন স্বার্থে, সেটাও আমরা জানতে চাই।” জেবেরের দাবি, “আমি কোনও দিন কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি, দিইওনি। কারও তোল্লা আমার প্রয়োজন হয় না।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Krishnanagar BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy